নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে খালেদা জিয়া

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:২৪ | আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:১৪

অনলাইন ডেস্ক

রায়ের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাদা রঙয়ের গাড়িতে করে তাকে পুরনো কারাগারে নেয়া হয়। 

এরআগে বেগম জিয়াকে বহনকারী সাদা রংয়ের একটি গাড়ি আদালত থেকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারের দিকে রওনা দেয়। সেখানে একসময় ব্যবহৃত কিডস ডে কেয়ার সেন্টারের তিনতলা ভবনের নিচতলায় দুটি রুমে তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বুধবার থেকেই কারাগারের আশপাশে নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। মোতায়েন করা হয় র‌্যাব ও পুলিশ।

এতিমদের জন্য পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বকশিবাজারের কারা অধিদফতরের মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। 

এছাড়া তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমদ আসামি হিসাবে রয়েছেন। এরমধ্যে তারেক রহমান, কামাল সিদ্দিকি ও মমিনুর রহমান পলাতক। খালেদা জিয়া জামিনে রয়েছেন। আর সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন কারাগারে আছেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হলেও এই প্রথম কোনো মামলায় তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হয়েছে। অরফানেজ মামলা ছাড়াও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো চারটি দুর্নীতির মামলা বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এরমধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া গ্যাটকো, নাইকো ও বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির মামলা অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য রয়েছে। অর্থ পাচারের একটি মামলায় আগেই তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে হাইকোর্ট। ওই মামলায় অবশ্য বিচারিক আদালত থেকে তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছিল।

পিডিএসও/হেলাল