পিলখানা ট্রাজেডি : মারা গেলেন তোরাব আলীও

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৪২ | আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৪৮

অনলাইন ডেস্ক

বহুল আলোচিত পিলখানা ট্রাজেডির হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে খালাস পেলেও মুক্তির আগেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন ঢাকার হাজারীবাগ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা তোরাব আলী। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, আজ শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তোরাব আলীর মৃত্যু হয়। আলোচিত ওই মামলায় জজ আদালতে যে ২ রাজনৈতিক নেতার যাবজ্জীবন সাজার রায় হয়েছিল, তাদের মধ্যে তোরাব আলী একজন। তার মত বিএনপির সাবেক সাংসদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুও এ মামলায় যাবজ্জীবন সাজার রায় পেয়েছিলেন জজ আদালতে। হাইকোর্টে আপিল শুনানির আগেই রাজশাহী কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালের ৩ মে হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়।
গত ২৭ নভেম্বর আপিলের রায়ে হাই কোর্ট থেকে খালাস পেলেও কাগজপত্র কারাগারে না পৌঁছানোয় তার মুক্তি মেলেনি। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তোরাব আলীকে ৩ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয় বলে হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক হালিম সাজু জানান।
২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ওই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ অন্তত ৭৪ জন নিহত হন। ওই হত্যাকা-ে সহায়তার অভিযোগে তোরাব আলীকে ৩০২ ধারায় সাজা দিয়েছিলেন জজ আদালতের বিচারক। ঢাকার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি তোরাব আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছিল, বিডিআরের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে তিনি সুপরিকল্পিত এ বিদ্রোহের কথা আগেই জানতে পারেন। কিন্তু তিনি তা কর্তৃপক্ষকে জানাননি।
তোরাব আলীর ছেলে হারুনুর রশিদ লিটন ওরফে লেদার লিটন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ উত্তরের সাবেক সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য। ঢাকার বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির কয়েক ডজন মামলার আসামি লিটন পুলিশের খাতায় পলাতক আছেন। পিলখানা হত্যা মামলায় হাইকোর্ট ১৩৯ জনের ফাঁসির রায় বহাল রেখে ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছে। এছাড়া ২২৮ জনের ৩ থেকে ১০ বছরের সাজা হয়েছে; আর মোট ২৮৮ জন খালাস পেয়েছেন।

পিডিএসও/মুস্তাফিজ