ভারতে আগাম নির্বাচনের পরিকল্পনা

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ১৪:২৭

অনলাইন ডেস্ক

আগাম নির্বাচনের পরিকল্পনা করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০১৮ সালের শেষে লোকসভা ভেঙে দিয়ে ভোট এগিয়ে আনতে চাইছেন তিনি। কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তার এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। মোদি তাদের বলেছেন, দেশে আইন করে লোকসভার সঙ্গে সব রাজ্যে বিধানসভা ভোট করারও পরিকল্পনা রয়েছে তার। নির্বাচন কমিশন ও নীতি আয়োগের (পরিকল্পনা কমিশনের বদলে তৈরি থিঙ্ক ট্যাংক) সঙ্গে কিছু দিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। সম্প্রতি নীতি আয়োগ জানিয়েছে,  ২০২৪ সালের মধ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব। এদিকে বিরোধীরাও ক্রমশ একজোট হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের যত কম সময় দেয়া যায়, ততই ভালো। আর লোকসভার লড়াই বিজেপিকে প্রস্তুত রাখতে অমিত শাহও ‘ভারত যাত্রা’র কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীদের মোদি বলেছেন, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে বিজেপি রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে। এর পর যদি লোকসভা ও রাজ্যসভায় এ ব্যাপারে আইন পাস করানো সম্ভব হয়, তা হলে ওই বছরে অর্থাৎ ২০১৮ সালের শেষে শীতকালে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীরা প্রকাশ্যে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন না। তবে মমতা ব্যানার্জির মতো বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রী এর সমালোচনা করছেন। মমতার বক্তব্য, যে রাজ্যগুলোতে সবে জিতে এসেছে কোনো দল, তারা কেন তাড়াহুড়ো করে ভোটে যাবে? এ বিষয়ে অবশ্য পাল্টা প্রস্তাব রেখেছেন মোদি। 
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্র শেখর রাওকে মোদি বলেন, উত্তরপ্রদেশ কিংবা পাঞ্জাবের মতো যে রাজ্যগুলোতে সদ্য ভোট হয়েছে, তাদের এক বছর ‘গ্রেস’ দেয়া যেতে পারে। অর্থাৎ সেখানে এক বছর পরে বিধানসভার ভোট হতে পারে। কিন্তু আসামের নেতাদের বক্তব্য, গ্রেস বা অতিরিক্ত সময় দেয়া হবে কীসের ভিত্তিতে? মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে মোদি যুক্তি দিয়েছেন, যে কোনো নতুন প্রস্তাব নিয়ে এগোতে গেলেই মতপার্থক্য হয়। শুরুতে ভয়, জড়তা থাকে। বাধা আসে। কিন্তু ভোট করাতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তা থেকে দেশকে বাঁচাতেই একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা ভোট করা উচিত। 
খরচ বাঁচাতে একসঙ্গে ভোট করার প্রস্তাব নিয়ে ভারতে অনেক দিন থেকেই আলোচনা চলছে। লালকৃষ্ণ আদভানী যখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তখন তিনিই প্রথম এ প্রস্তাব দেন। আর প্রধানমন্ত্রী হয়েই মোদি একে বাস্তবায়িত করতে আদাজল খেয়ে নেমেছেন। দেশে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর সংখ্যা এখন অনেক। কিন্তু মোদি জানেন, এক-দুটি রাজ্যের বিরোধিতায় জিএসটির মতো আইন কার্যকর করতে কত জটিলতা হচ্ছে। ফলে লোকসভা-বিধানসভাগুলোর ভোট একসঙ্গে করাও যে সহজ ব্যাপার নয়, প্রধানমন্ত্রী তা ভালোভাবেই বুঝছেন। 
অবশ্য লোকসভা ভোট নির্ধারিত রয়েছে ২০১৯ সালে। বিজেপি সূত্র বলছে, উত্তরপ্রদেশে বিরাট জয়ের পর এই মুহূর্তে মোদির যে জনপ্রিয়তা, পরে হয়তো তা ধরে রাখা যাবে না। সরকারবিরোধী অসন্তোষ বেড়ে যাওয়ার আগেই ভোটে গেলে সুবিধা রয়েছে।

পিডিএসও/মুস্তাফিজ