উত্তরবঙ্গে বিধায়ক খুন, তোপের মুখে মমতা

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২০, ১৪:০২ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ১৪:০৮

পার্থ মুখোপাধ্যায়
প্রতীকী ছবি

উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে একটি চায়ের দোকান থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে খুন করা হয়েছে।

রায়গঞ্জ শহরের সুদর্শনপুরের বাসিন্দা দেবেন্দ্রনাথ রায়। বিন্দোলের বালিয়ার তার আদি বাড়ি। রোববার সন্ধ্যায় সেখানেই ফিরছিলেন। তবে তারপরই রাতে আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান। বিজেপি বিধায়ক বাড়ি না-ফেরায় সারারাত ধরে চলে তল্লাশি। স্থানীয়রা সর্বত্র খোঁজ করেও সন্ধান পাননি। খুঁজতে খুঁজতে সোমবার সকালে বিধায়কের বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে রাস্তার ধারে একটি চায়ের দোকানের সামনে চলে যান স্থানীয়রা। সেখানে বন্ধ চায়ের দোকানের সামনে বিধায়কের হাত-পা বাঁধা ঝুলন্ত দেহ মেলে।

দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে, এটি খুন নাকি আত্মহত্যার ঘটনা—তা এখনও স্পষ্ট নয় পুলিশের কাছে। যদিও মৃত বিধায়কের স্ত্রী তথা প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান চাঁদিমা রায়ের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে দেবেন্দ্রনাথকে। মৃত্যুর প্রকৃত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরি।

তিনি বলেন, এই মৃত্যু যথেষ্ট সন্দেহজনক। একজন মানুষ হাতবাঁধা অবস্থায় কখনওই আত্মহত্যা করতে পারেন না। পুলিশ সঠিক তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ বের করুক।

এই ঘটনার পেছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। বিজেপি বিধায়কের মৃত্যুর সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। একই দাবি করেছেন কংগ্রেসের সভাপতি সোমেন মিত্রও।

২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে হেমতাবাদ কেন্দ্র থেকে সিপিএমের টিকিটে জিতেছিলেন দেবেন্দ্রনাথ। বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতে পরপর তিনবার সিপিএমের প্রধান ছিলেন তিনি। সমবায় সমিতি গড়ে গ্রামের বহু মানুষকে আর্থিক সাহায্য করতেন। তারপর ২০১৯ সালে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

পিডিএসও/হেলাল