মহারাষ্ট্রে ওষুধ কিনতে আধার কার্ড

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২০, ২০:০৬

পার্থ মুখোপাধ্যায় (কলকাতা)

মহারাষ্ট্রে অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওষুধ টোসিলিজুমাব কিনতে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, কোভিড পজিটিভ রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কিছু নথির সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির আধার কার্ডও জমা দিতে হবে। এমনই নির্দেশিকা জারি করেছে মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ওই দুই ওষুধের কালোবাজারি রুখতে এই পদক্ষেপ বলে সরকারি সূত্রে খবর।

বিভিন্ন ওষুধ উৎপাদক সংস্থাগুলি থেকে এখন সরাসরি রেমডেসিভির এবং টোসিলিজুমাব পৌঁছে যাচ্ছে হাসপাতালগুলিতে। সেখানে এই দুই ওষুধ মজুত করা হচ্ছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখছে নিয়ামক সংস্থাটি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার।

এ প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মন্ত্রী রাজেন্দ্র শিংনে বলেছেন, যাদের কোনও প্রয়োজন নেই তারাও এই দুই ওষুধ কিনছে এবং পরে তা চড়া দরে বিক্রি করছে। এখন এই ওষুধ কিনতে গেলে এই নথিগুলো দেখাতে হবে। ফলে এই ওষুধ কারা কিনছে তার খোঁজ পাওয়া যাবে। সেইসঙ্গে কালোবাজারি বন্ধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রেমডেসিভির এবং টোসিলিজুমাবের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ওষুধ সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই দুই ওষুধের কালোবাজারি রুখতে সম্প্রতি মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং মুম্বই পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ। কালোবাজারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) প্রধান টেড্রোস অ্যাডহ্যানোম গ্যাব্রিয়েসাস করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় ধারাবী মডেলের প্রশংসা করে বলেছেন, মুম্বইয়ের মতো মহানগরীর ঘনবসতি এলাকায় কোভিড-১৯ মোকাবিলার ক্ষেত্রে এটি একটি নজির। জেনেভায় ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেছেন, স্পেন, ইটালি, দক্ষিণ কোরিয়া এমনকি ঘনবসতিপূর্ণ মুম্বইয়ের ধারাবী এলাকাও ধারাবাহিক লড়াইয়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে। বিশ্বে একটি নজির স্থাপন করতে পেরেছে। কঠোরভাবে লকডাউন পালন, সংক্রমিত মহল্লাগুলিকে গণ্ডিতে বেঁধে দেওয়া, নিরন্তর নজরদারি এবং বিপুল সংখ্যায় পরীক্ষা, এ ভাবেই সফল হয়েছে মুম্বইয়ের ধারাবী বস্তির কন্টেনমেন্ট স্ট্র্যাটেজি।

জুন মাসের গোড়াতে সেখানে গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা ছড়ালেও পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। মাত্র আড়াই বর্গ কিলোমিটারের ধারাবী বস্তিতে ন’লক্ষেরও বেশি মানুষের বসবাস। জুন মাসের গোড়ায় ধরাবীতে গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু এর পরেই সক্রিয় হয় মহারাষ্ট্র সরকার ও বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। পাশাপাশি, করোনা চেন ভাঙতে, টেস্টিং, ট‌্র্যাকিং, আইসোলেশন অ্যান্ড ট্রিটিং নীতি অনুসরণ করা হয়।

পিডিএসও/এসএম শামীম