ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হার্ভার্ড ও এমআইটির মামলা

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২০, ০৮:২১ | আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২০, ০৮:৪৪

অনলাইন ডেস্ক

বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইটি (ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলোজি)। বুধবার বোস্টনের ডিস্ট্রিক্ট আদালতে করা মামলায় গত ৬ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ঘোষণা স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছে। ওই ঘোষণাকে বেআইনি আখ্যা দেওয়া হয়েছে ওই আবেদনে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেস এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছেন। তবে করোনাভাইরাসের কারণে আসন্ন শিক্ষাবর্ষে এসব বিশ্ববিদ্যালয় যদি শুধু অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে এসব শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত ৬ জুলাই মার্কিন প্রশাসনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের হয় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে অন্যথায় তাদের ফেরত পাঠানো হবে। ওই আদেশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইটি।

আদালতে দাখিল করা নথিপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দাবি, তারা গত মার্চ থেকে মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের নীতির ওপর থেকে নির্ভর করে আসছে। ওই নীতিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও নতুন শিক্ষার্থীদের সেদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ জানান, তাদের পাঁচ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে ভার্চুয়াল পাঠদানে অংশ নিতে হবে। এ অবস্থায় সরকারের সিদ্ধান্তটি ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের সমান। আগে থেকেই কোনো প্রকার নোটিশ না দিয়ে নেওয়া—এ সিদ্ধান্তের নিষ্ঠুরতাকে শুধু এর হঠকারিতার সঙ্গেই তুলনা করা চলে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত থাকলে অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়া যাবে না দেশটিতে অবস্থান করে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ছেড়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে এমন ক্লাসে অংশ নিতে হবে। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিবাসন সংক্রান্ত এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ নিয়ে চরম অসন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (৮ জুলাই) সিদ্ধান্তটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় দুই বিদ্যাপীঠ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউড অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

সরকারি নির্দেশনার আওতায়, আগামী ফল সেমিস্টারে (আগস্ট–ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় দুটির শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় মামলা করা হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে চলতি সপ্তাহেই সমস্ত বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দেয় হার্ভার্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের জন্য তা সমানভাবে প্রযোজ্য।

মামলার কারণ জানিয়ে বার্তা সংস্থা সিএনএনকে পাঠানো এক বিবৃতিতে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ জানান, তাদের পাঁচ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে ভার্চুয়াল পাঠদানে অংশ নিতে হবে। এ অবস্থায় সরকারের সিদ্ধান্তটি ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের সমান। আগে থেকেই কোনো প্রকার নোটিশ না দিয়ে নেওয়া—এ সিদ্ধান্তের নিষ্ঠুরতাকে শুধু এর হঠকারিতার সঙ্গেই তুলনা করা চলে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ল্যারি বেকো স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী সেমিস্টারে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন শিক্ষার্থীদের জন্য স্বশরীরে ক্লাসে উপস্থিতির সিদ্ধান্ত নেয়, সে জন্যেই ইচ্ছেকৃতভাবে অন্যায় চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনার এটাই মূল উদ্দেশ্য। অথচ এভাবে ক্যাম্পাস চালু রেখে পাঠদান চালিয়ে গেলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা সহযোগী অন্যান্য পেশাজীবীরা যে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মুখে পড়বেন—তা একবার বিবেচনা করা হয়নি।

পিডিএসও/হেলাল

সর্বাধিক পঠিত