ভারতে করোনার টিকা নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২০, ০৮:৩৩ | আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ০৮:৪৯

কলকাতা প্রতিনিধি

ভারতের স্বাধীনতা দিবসের মধ্যেই কি করোনার টিকা বাজারে আসছে—দেশজুড়ে এই বিতর্কে এবার নতুন ইন্ধন জুগিয়েছে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর-এর উল্টো সুরেই রোববার বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় প্রথমে বলে, করোনার টিকা ২০২১-এর আগে আসবে বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই উলটপুরাণ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে ওই লাইনটি মুছে লেখা হয়, দুটি টিকার মানবশরীরে পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তা করোনার, শেষের শুরু।

এর আগে শুক্রবার আইসিএমআর দাবি করে, ১৫ আগস্টের মধ্যেই দেশে তৈরি প্রথম কোভিড টিকা বাজারে আনা হবে। কিন্তু আইসিএমআর-এর এই দাবির পর থেকেই টিকা-বিতর্কে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা দেশ। কোভিড টিকা খুব তাড়াহুড়ো করে বাজারে আনা হচ্ছে, বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বিপুল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, এমনই মত উঠে আসতে থাকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের তরফে।

করোনার টিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ আইসিএমআর-এর এই ব্যস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে বিরোধীরাও। এই বিতর্কের মধ্যেই বিবৃতি জারি করে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের। টিকা নিয়ে আইসিএমআর যে সময়সীমার কথা প্রথমে বলেছিল, তা থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের বলে, করোনার টিকা নিয়ে কাজ করছে ৬টি ভারতীয় সংস্থা। এর মধ্যে দুটি ভারতীয় টিকাও, কোভ্যাক্সিন এবং জাইকোভ ডি, পরীক্ষা নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্বে ১৪০টি টিকার মধ্যে ১১টি মানবদেহের উপর পরীক্ষা করা হচ্ছে। এগুলির মধ্যে কোনওটাই ২০২১-এর আগে আসবে বলে মনে হচ্ছে না।

দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস)-এর অধিকর্তা রণদীপ গুলেরিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এত তাড়াহুড়ো করে কোভিডের টিকা বাজারে আনাটা ঠিক হচ্ছে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ, এই টিকার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার যথেষ্টই সম্ভাবনা রয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল