আছড়ে পড়লো ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ, বেঁচে গেল মুম্বাই

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২০, ১৭:১৩ | আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ১৮:০০

কলকাতা প্রতিনিধি

সাইক্লোন নিসর্গ প্রবল বেগে মহারাষ্ট্র উপকূলে আছড়ে পড়েছে। প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় পর মুম্বাই সংলগ্ন এলাকায় আছড়ে পড়ল কোনও ঘূর্ণিঝড়। এর ফলে মুম্বাই ও সংলগ্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে থানে, রায়গড়, রত্নগিরি এবং সিন্ধুদুর্গ এলাকায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। মুম্বাইয়েও জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। ভয়ঙ্কর শক্তিশালী ওই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শুধু মহারাষ্ট্রই নয়, গুজরাট, দমন-দিউ এবং দাদরা ও নগর হাভেলিতেও জারি করা হয়েছে প্রবল সতর্কতা।

বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সমুদ্রের কাছে এবং উপকূলবর্তী এলাকায় যাতায়াতের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে কেউ সমুদ্র বা উপকূলে গেলে তার বিরুদ্ধে অপরাধদমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এদিকে নিসর্গের কারণে বুধবার সন্ধে ৭টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিষেবা। ওই সময়ে কোনও বিমান ওঠা-নামা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পূর্বাভাস মতোই বুধবার দুপুরেই মহারাষ্ট্র উপকূলে প্রবল শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়েছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী বা,এনডিআরএফ-এর শীর্ষ কর্তা এসএন প্রধান, টুইটে লেখেন যে, মুম্বাই থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে আলিবাগের কাছে বুধবার দুপুরেই আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ। পূর্বাভাস অনুযায়ীই মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলায় আলিবাগের কাছে ভয়ঙ্কর শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ। তিনি কয়েকটি ভিডিও ক্লিপও পোস্ট করেছিলেন যেখানে দেখা যাচ্ছিল প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গাছগুলো অসম্ভব রকম দুলছে। 
স্থলভাগে নিসর্গ এগিয়েছে ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার বেগে। তবে হাওয়ার গতিবেগ থেকেছে ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। কখনও ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়েছে।

মুম্বাই, ঠানে, রায়গড়, পালঘরে ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে তুমুল বৃষ্টিপাত হছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। গোয়াতেও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানিয়েছে, সাইক্লোনের কেন্দ্র মহারাষ্ট্র উপকূলের খুব কাছেই। মহারাষ্ট্র অবশ্য আগেভাগেই প্রস্তুত থেকেছে সাইক্লোন মোকাবিলা করার জন্য। মুম্বাইয়ের উপকূলবর্তী এলাকা থেকে ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে বিএমসি। ৩০ হাজার মানুষ নিজেরাই নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। মহারাষ্ট্র এবং গুজরাট উপকূলে ইতোমধ্যে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৪৩টি দল কাজে নেমে পড়েছে। উপকূল এলাকা থেকে সব মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়া প্রায় সম্পূর্ণ।আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রাখা হয়েছে তাদের। তবে করোনা সতর্কতায় তাদের মধ্যেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখায় জোর দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই তালিকাভুক্ত করে বেছে নিয়েছেন আধিকারিকরা। কাঁচা বাড়িতে বসবাস করা লোকজনদের খালি করাও রয়েছে তারমধ্যে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফেও বলা হয়েছে, মুম্বাই শহরে বাস করা বস্তিবাসীদের, বিশেষ করে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরানো হয়েছে। কোনওরকম জরুরি অবস্থার জন্য, করোনার জন্য ব্যবহৃত নয়, এমন হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতি মেটাতেও পদক্ষেপ করা হয়েছে রাজ্যের তরফে, পাশাপাশি পালঘরের নিউক্লিয়ার প্রকল্প নিয়েও পদক্ষেপ করা হয়েছে।

দেশের মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটে সবথেকে বেশি কোপ ফেলেছে করোনা ভাইরাস। শুধু মহারাষ্ট্রেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে উদ্ধার কাজ সহজ নয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নাগরিকদের সরানো হয়েছে নিরাপদ স্থানে।