২ লাখ ছাড়ালো ভারত, করোনা সংক্রমণেও রেকর্ড

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২০, ১৪:০৫

পার্থ মুখোপাধ্যায়

ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা আগেই ২ লাখ পেরিয়ে গিয়েছিল। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার একদিনে সর্বাধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার পর বর্তমানে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২,০৭,৬১৫ জন। এর মধ্যে চিকিত্‍‌সাধীন রয়েছেন ১,০১,৪৯৭ জন। অর্থাত্‍‌ মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক।

একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা আবারও সর্বাধিক। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮,৯০৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১,০০,৩০৩ জন। দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫,৮১৫ জন। রাজ্যগুলির মধ্যে এখনও সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত মহারাষ্ট্র। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭২,০০০-এরও বেশি। মৃত্যু হয়েছে ২,৪৬৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৩১,৩৩৩ জন। তারপরেই রয়েছে তামিলনাড়ু, দিল্লি, গুজরাট, রাজস্থান।

বেসরকারিভাবে যেদিন দেশে করোনা আক্রান্ত ২ লাখ পেরিয়ে গেল, সেদিনই আইসিএমআর-এর অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক বলেছেন, সংক্রমণের শিখর এখনও বহু দূর! ভারতে প্রতিদিনই গড়ে ৮ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। দৈনিক মৃতের সংখ্যাও ২০০ ছাপিয়ে গিয়েছে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়বে, এই বাস্তব মেনে নিয়ে সাধারণ মানুষের ভয় কাটাতে কন্টেনমেন্ট নীতিতে বদল আনার পরিকল্পনা করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, এই বিষয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর বা এসওপি তৈরি করা হয়েছে। রোববার ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল ৩৭১। সেটাই ছিল পশ্চিমবঙ্গে এ-পর্যন্ত একদিনে সর্বাধিক আক্রান্তের পরিসংখ্যান। মঙ্গলবার একদিনে সংক্রমিতের সংখ্যা প্রায় চারশো, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৬ জন আক্রান্ত হওয়ায় এ দিনই ছ’হাজারের গণ্ডি অতিক্রম করেছে রাজ্যে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা। ৩৯৬ জন নতুন আক্রান্তের মধ্যে কলকাতায় ১১৬ জন আছেন। এর আগে মহানগরে একদিনে শতাধিক বাসিন্দার আক্রান্ত হওয়ার নজির নেই। দ্বিতীয় উত্তর ২৪ পরগনা, তার পরে আছে হাওড়া, হুগলি, কোচবিহার।

স্বাস্থ্য ভবনের খবর, কলকাতার ১১৬ জনের মধ্যে অন্তত ১৮ জন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা। ওই ১৮ জনের মধ্যে সাত জন মহিলা এবং ১১ জন পুরুষ রয়েছেন। পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের অন্তত ৩৫ জনের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। আনলক ওয়ানের পরেও সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষ যাতে ভীত হয়ে না-পড়েন, সেটাই স্বাস্থ্য দফতরের লক্ষ্য। সেজন্য কন্টেনমেন্ট এলাকার পরিধিও কমানো হচ্ছে। ওই এলাকা বড় হলে অনেক বাসিন্দাকেই অকারণে আটকে থাকতে হয়, সেটা বাঞ্ছনীয় নয়। 

পিডিএসও/হেলাল