আম্পান তাণ্ডবে বিচ্ছিন্ন কলকাতা, মৃত্যু বাড়ছেই

প্রকাশ : ২১ মে ২০২০, ১৪:২৪ | আপডেট : ২১ মে ২০২০, ১৫:৩৮

পার্থ মুখোপাধ্যায়

বৃহস্পতিবার দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছে একের পর এক মৃত্যুর খবর, ক্ষয়ক্ষতির খবর। কিন্তু সবটাই খণ্ডচিত্র, গোটা রাজ্যের খুব অল্প অংশের ক্ষয়ক্ষতির ছবিই সামনে এসেছে এখনও পর্যন্ত। কারণ, বহু এলাকা এখনও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। বিদ্যুৎ নেই, টেলি যোগাযোগ ব্যাবস্থাও সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত। বীভৎসতা হার মানাচ্ছে আয়লার ধ্বংসলীলাকেও। খুব প্রাথমিক পর্যায়ে গোটা রাজ্যে অন্তত ১০-১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। বজবজ পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের এস এন ব্যানার্জি রোডের বাসিন্দা পার্থ বিশ্বাস বাড়়ি ফিরছিলেন। সেই সময় বিদ্যুতের তার জড়িয়ে গাছ উপড়ে পড়ে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন পার্থ। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তড়িদাহত হন তার কাকা স্বপন এবং আরও দুজন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৪ জনের। হুগলিতে এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। বুধবার রাতেই হাওড়াতে মৃত্যু হয়েছিল এক কিশোরীর। সকালে হাওড়ার ব্যাটরা এলাকায় জলমগ্ন রাস্তায় পড়ে ছিল বিদ্যুৎবাহী তার। সেই রাস্তা দিয়ে যেতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাইক আরোহী যুবক। নদিয়ার চাকদহে বাড়িতে গাছ পড়ে মারা গিয়েছেন ২ জন।

অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীবাঁধ ভেঙে একের পর এক এলাকা ভেসে গিয়েছে। খুব প্রাথমিকভাবে রাজ্যের উপকূলবর্তী তিন জেলা প্রশাসনের হিসাব, হাজার হাজার কাঁচা বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। নিরাশ্রয় হয়েছেন লাখো লাখো মানুষ। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে চাষের মাঠ, পানের বরোজ, সব্জির খেত। 

এদিকে আম্পান ১০০ কিলোমিটারের বেশি বেগে কলকাতার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবল আক্রোশে উপড়ে গিয়েছে অসংখ্য গাছ। কলকাতার উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম সমস্ত প্রান্তেই বড় রাস্তা হোক বা গলি,অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে উপড়ে যাওয়া গাছে। শহরের মধ্যেই দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন এলাকা। কয়েক মিটার অন্তর অন্তর পড়ে রয়েছে উপড়ে যাওয়া গাছ। একই ছবি লেনিন সরণি, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট, গণেশ অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করে রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, পাটুলি, যাদবপুর, বাঘাযতীনে।ট্রামের তার বা কোথাও ফুটপাথের একাংশ শুদ্ধ রাস্তায় একের পর এক উপড়ে পড়েছে বট, অশ্বত্থ, কৃষ্ণচৃড়া, রাধাচূড়া গাছ। ঝড়ের দাপটে উপড়ে গিয়েছে একের পর এক বাতি স্তম্ভ, সিগন্যাল পোস্ট। কোথাও গাছ বা পাঁচিল ভেঙে পড়়েছে পার্ক করা গাড়ি বা বাসের উপর। একই ছবি কলকাতা সংলগ্ন হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার শহরাঞ্চলে। গাছ পড়ে অবরুদ্ধ বিটি রোডের একটা বড় অংশ এবং যশোহর রো়ড।

অন্যদিকে আম্পান অবরুদ্ধ শহরে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে গিয়েছে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও। রাত থেকেই গোটা রাজ্যের বিভিন্ন অংশে মোবাইল পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহর থেকে জেলা সমস্ত জায়গাতেই বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা। অন্যদিকে, ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আম্পান শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এ রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে নিম্নচাপটি এখন বাংলাদেশের উপরে অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সাইক্লোনের তকমা হারিয়ে আম্পান নিম্নচাপের আকার নিয়েছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

পিডিএসও/হেলাল