লকডাউন : অনাহারে প্রফুল্ল চাকির পরিবার, উদ্ধারে মমতা

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২০, ১৩:০৭

পার্থ মুখোপাধ্যায়

২০ এপ্রিল থেকে দেশের কিছু কিছু ক্ষেত্রকে লকডাউনের আওতার বাইরে রাখার ভাবনাচিন্তার মধ্যেই লকডাউনের নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের লকডাউন-গাইডলাইন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ২০ এপ্রিল থেকে কৃষিকাজসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। ছাড় দেওয়া হবে আইটি, ই-কমার্স ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় পরিবহনের ক্ষেত্রেও।

২০ এপ্রিলের পরে করোনাভাইরাসের হটস্পট নয় এমন অঞ্চলগুলোতে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কৃষি পণ্য সংগ্রহ ও কৃষি বিপণনের কাজ শুরু করা হবে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে প্রত্যক্ষ ও বিকেন্দ্রীভূত বিপণনসহ কৃষিকাজেরও অনুমতি দেওয়া হবে ওই অঞ্চলগুলোতে। দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য, হাঁস-মুরগি, চা, কফির সরবরাহ, রবার বাগানের কাজ, লাইভ-স্টক ফার্মিংসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ফের কাজ শুরু করা হবে।

লকডাউনের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে। সেই পরিস্থিতিকে চাঙ্গা করার জন্যে এবং এই বিষয়ে গ্রামীণ কমন সার্ভিস সেন্টারগুলির (সিএসসি) কর্মীদের ওই কাজগুলো পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ওই লকডাউন নির্দেশিকায়।

বাড়ি ফেরার জন্যে মহারাষ্ট্রে আটকে পড়া শ্রমিকদের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে স্বঘোষিত শ্রমিক নেতা বিনয় দুবেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লকডাউনের সময় অশান্তি ছড়ানোয় মদদ দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করেছে মুম্বাই পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা স্টেশন চত্বর। ওই এলাকায় কমপক্ষে কয়েক হাজার অভিবাসী শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

তাদের একটাই দাবি ছিল, যেকোনওভাবে তাদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে। কিন্তু হঠাৎ এত শ্রমিকের ক্ষেপে ওঠার নেপথ্যে ছিল ওই ব্যক্তির উস্কানি। ১৪ এপ্রিল লকডাউন শেষ হচ্ছে ভেবে ওই ব্যক্তি মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়ে অভিবাসী শ্রমিকদের বাড়ি যাওয়ার ডাক দেন। স্ব-ঘোষিত শ্রমিক নেতা বিনয় দুবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন চলো ঘর কি ওর অর্থাৎ, চলুন বাড়ি যাই। এমনিতেই ভিনরাজ্যে গত ২১ দিন ধরে আটকে থাকায় মনে মনে ফুঁসছিলেন ওই শ্রমিকরা, বিনয় দুবের ওই আহ্বানে আগুনে ঘি পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩ মে পর্যন্ত করার ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে তারা ফুঁসে ওঠেন। মুহূর্তেই কয়েক হাজার শ্রমিক জড়ো হন বান্দ্রা স্টেশন চত্বরে। পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। 

পিডিএসও/হেলাল