লড়াইয়ে জিততে ‘লকডাউন’ বাড়ল ভারতে

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ১১:২৭

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিততে ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।দেশের মানুষ লকডাউন মেনে চলেছেন, সকলকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেছেন যেভাবে সকলে একসঙ্গে করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করছেন তা দৃষ্টান্ত স্বরূপ। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এখন পয়লা বৈশাখ, বিহু সহ নানা উৎসবের সময়।লকডাউনের ফলে মানুষ এই সব উৎসবে সামিল হতে পারছেন না। যেভাবে মানুষ এই সময়েও ঘরে বসে রয়েছেন, তা যথেষ্টই প্রশংসার। দেশের সকল মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে সবার সুস্বাস্থ্যের কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এই নিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে চতুর্থবার দেশের মানুষের প্রতি ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে লকডাউনের মেয়াদ ৩ মে পর্যন্ত জারি রাখার ঘোষণা করা হলেও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সমস্ত রাজ্যের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হবে।কোথায় কোথায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। যে যে অঞ্চলে দেখা যাবে নতুন করে আর করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে না, সেখানে সেখানে ২০ এপ্রিলের পর থেকে লকডাউনের ক্ষেত্র থেকে কিছু কিছু ছাড় দেওয়া হবে।

একইসঙ্গে ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে যদি লড়া যায় তবে করোনা ভাইরাসের মতো মহামারীকেও রুখে দিতে পারবে ভারত ,আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।তাঁর দাবি বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বেশ কয়েক কদম এগিয়ে রয়েছে ভারত। যেভাবে আগে থেকেই বিমানবন্দর সহ বিভিন্ন জায়গায় নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা হয়েছে তাতে অনেকটাই কমানো গেছে সংক্রমণের গতি, দাবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।তিনি জানিয়েছেন,হটস্পটগুলিতে বাইরে বেরনোর উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ থাকবে।নতুন হটস্পট হলে দায়িত্ব ও পরীক্ষা আরও বেড়ে যাবে।যে স্থানগুলি হটস্পটে পরিণত হতে পারে, সেগুলির উপরেও কড়া নজর রাখতে হবে।হটস্পটগুলিকে নির্ধারিত করে আগের থেকেও আরও কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

এদিকে নববর্ষের সকালে বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা বার্তা লিখে টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।তিনি লিখেছেন,পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন।সকলে সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন। তবে শুধু বাংলাতেই নয়, তামিলনাড়ু, কেরল ও অসমেও উৎসব রয়েছে।যেমন তামিল নববর্ষ পুথাণ্ডু, কেরলে রয়েছে বিশু উৎসব।অন্যদিকে বাংলার প্রতিবেশী অসমে রয়েছে বিহু উৎসব। তবে এদিন সব জায়গাতেই উৎসব পালন করা হবে ঘরে বসেই।এর আগে জানুয়ারিতে তিনি যখন কলকাতায় এসেছিলেন, তখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলায় টুইট করেছিলেন।টুইটে তিনি বলেছিলেন, তিনি আনন্দিত ও উৎসাহিত পশ্চিমবঙ্গে কাটানোর জন্য। রামকৃষ্ণ মিশনে যাওয়ার সৌভাগ্যের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।উল্লেখ্য এই বছর বাঙালির নববর্ষের আনন্দ ফিকে করে দিয়েছে মারণ ভাইরাস।দেশব্যাপী লকডাউনের আজ ২১ দিন।