করোনায় অদ্ভুত আঁধারে বিশ্ব

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৯:১২

আন্তর্জতিক ডেস্ক

করোনায় অদ্ভুত এক আঁধার নেমেছে বিশ্বে। প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৮৮ হাজার। ডিসেম্বরে চীনে মহামারি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিশ্বের ১৯২ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। নিউইয়র্ক যেন পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। 

করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১৯। এরই মধ্যে ৮৩ হাজার ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ৭৬৭ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়া জুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এদিকে, তৃতীয় দিনের মতো হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে ডাউনিং স্ট্রিট।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৫ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৮৯৩ জনের। তবে মৃতের হিসাবে শীর্ষে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১৭ হাজার ১২৭। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮৬ জন। মৃতের হিসাবে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১৪ হাজার ৪৫। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৪২।

মৃতের সংখ্যায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭০ জন। এরই মধ্যে ১০ হাজার ৩৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইরানে মারা গেছে যথাক্রমে ৬ হাজার ১৭১ এবং ৩ হাজার ৮৭২ জন।

উৎপত্তিস্থল চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৩৭। যদিও দেশটির বিরুদ্ধে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপন করার অভিযোগ রয়েছে। উহানের একজন স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘বুদ্ধি-বিবেচনাসম্পন্ন যেকোনো মানুষ এই সংখ্যা (সরকারি পরিসংখ্যান) নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবেন।’

করোনাভাইরাসের মহামারি এখনো সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে পৌঁছায়নি বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনের মতো সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে সংক্রমণ শুরু হলে পরিস্থিতি আরো বিপর্যয়কর হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘ভাইরাসটি দেখিয়ে দিয়েছে কত দ্রুত তা সীমান্ত পার হতে পারে, দেশ বিধ্বস্ত করে দিয়ে জীবন কেড়ে নিতে পারে।’ করোনা মহামারি মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোকে আরো বেশি সহায়তা দিতে উন্নত দেশ এবং বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

মার্কিন বুদ্ধিজীবী নোম চমস্কি বলেছেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগে এ ব্যাপারে বিপুল তথ্য বিশ্বের কাছে ছিল। তখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে এই ভাইরাসের মহামারি ঠেকানো যেত। তবে মুনাফাবাজ ও দায়িত্বহীন রাজনৈতিক ও বাজার-ব্যবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে করোনার চেয়েও বড় দুই বিপদ আসছে। এর একটি হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা, অন্যটি সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধ।

করোনায় বিভিন্ন দেশে মৃত্যু

ইতালি : ১৭, ১২৭

স্পেন : ১৪,০৪৫

যুক্তরাষ্ট্র : ১২,৮৯৩

ফ্রান্স : ১০,৩৪৩

যুক্তরাজ্য : ৬,১৭১

ইরান : ৩,৮৭২

পিডিএসও/তাজ