বাড়ি পৌঁছতে রাস্তাতেই মৃত রণবীর, রণক্ষেত্র কাশ্মীর

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২০, ১১:২৮ | আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ১১:৪০

পার্থ মুখোপাধ্যায়
লকডাউনের পর বহু ভিন রাজ্যের মানুষ পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন

লকডাউন ঘোষণা করার পর দিল্লি থেকে মধ্যপ্রদেশে নিজের বাড়িতে পৌঁছতে ২০০ কিলোমিটার হেঁটেছিলেন যে যুবক, তিনি রাস্তাতেই মারা গিয়েছেন। একজন ডেলিভারি এজেন্ট হিসেবে দিল্লিতে কর্মরত ছিলেন রণবীর সিংহ। লকডাউনের ঘোষণার পর চাকরি, আশ্রয় ও অর্থের অভাবের মুখোমুখি যে মানুষরা নিজেদের রাজ্যে ফেরার চেষ্টা করছিলেন, রণবীর ছিলেন তাদেরই একজন।

পথঘাট শুনশান, অগত্যা পায়ে হেঁটেই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অনেকেই নিজের গন্তব্যে পৌঁছেছেন। রণবীর সিংহও যাত্রা শুরু করেন ৩২৬ কিলোমিটার দূরে মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলায় নিজের বাড়িতে পৌঁছনোর জন্য। দীর্ঘ পথ হাঁটতে হাঁটতে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় এসে হাইওয়ের উপরেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। এক স্থানীয় দোকানদার তাকে চা ও বিস্কুট খেতে দেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রণবীর। তখনও গ্রাম থেকে তার দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লির বাস টার্মিনাসে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। উত্তরপ্রদেশের সীমান্তে নিজেদের বাড়িতে যে করে হোক পৌঁছতে চেষ্টা করছিলেন তারা।

রোগীদের পরিবারের লোকের তাণ্ডবে শনিবার রণক্ষেত্রে পরিণত শ্রীনগরের সরকারি হাসপাতালে প্রতিবাদীদের ভিড়ে মিশে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত ২৬ রোগী।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ওই ২৬ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। এই ২৬ জন করোনা পজিটিভ কি না, তার জন্য রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু, তাদের মধ্যে কয়েক জনও যদি করোনা পজিটিভ হয়ে থাকে, তাহলে করোনার সংক্রমণ ভূস্বর্গে ভয়াবহ রূপ নেবে। শুধু ওই ২৬ জন বা তাদের পরিবার নয়, কাশ্মীরে গণহারে প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াবে।

জানা গেছে, করোনা সংক্রমণের জেরে শ্রীনগরের সরকার পরিচালিত জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালের অব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ উঠতে থাকে। অভিযোগ, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীরা মেডিক্যাল পরিষেবা পাচ্ছেন না। দিন কয়েক ধরে চলা সেই ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ে। অব্যবস্থা নিয়ে রোগীর স্বজনদের প্রতিবাদ প্রদর্শনের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সরাতে গেলে একরকম দাঙ্গা বেধে যায়।

হাসপাতাল চত্বরে তুমুল তাণ্ডব শুরু হয়ে যায়। ভেতরে থাকা আসবাব ভাঙচুর করা হয়। ভাঙা হয় জানালা-দরজাও। হাসপাতালের বাইরেও মারমুখী হয়ে ওঠেন প্রতিবাদীরা। সেই সুযোগে শ্রীনগরের ওই হাসপাতাল থেকে চম্পট দেয় করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে পর্যবেক্ষণে থাকা ২৬ কাশ্মীরি।

পিডিএসও/হেলাল