দিল্লিতে চিকিৎসকের পজিটিভ, কোয়ারেন্টাইনে ৯০০

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২০, ১৩:১৬

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

দিল্লির করোনা পজিটিভ চিকিৎসকের সঙ্গে ১৪ দিনে যে সমস্ত ব্যক্তিরা সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের কোয়ারেন্টাইন করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৯০০ জনকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। ওই ৯০০ জনের মধ্যে অধিকাংশই দিল্লির মহল্লা ক্লিনিকে এর আগে ওই চিকিৎসককে দেখাতে এসেছিলেন,কিন্তু পরে জানা যায়, চিকিৎসক নিজেই করোনা আক্রান্ত। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন, আগাম সতর্কতা হিসাবেই ওই ৯০০ জনকে আপাতত ১৪ দিনের জন্যে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দিল্লিতে নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৬ এ পৌঁছেছে। জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে ফেরা এক করোনা আক্রান্ত মহিলার সংস্পর্শে আসার পরেই আক্রান্ত হন ওই চিকিৎসক, তারপর রোগ ছড়ায় চিকিৎসকের স্ত্রী, কিশোরী মেয়ে সহ আরও একজনের শরীরে। ওই চিকিৎসক উত্তর-পূর্ব দিল্লির একটি মহল্লা ক্লিনিকে কর্মরত ছিলেন।ফলে প্রতিদিনই অসংখ্য রোগী তার কাছে এসেছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে,সেখানেই চিকিৎসকের শরীর থেকে ওই মরণ ভাইরাস বাসা বাঁধতে পারে অন্যদের শরীরেও। মৌজপুরের ওই ক্লিনিকে ১২ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ, যারা ওই চিকিৎসককে দেখাতে এসেছিলেন তাদের উদ্দেশে বলা হয়েছে যে, নিজেদের শরীরে করোনার লক্ষণ দেখলেই তৎক্ষণাৎ সেকথা স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে জানাতে হবে।

অন্যদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবার জম্মু-কাশ্মীরে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এই প্রথম কাশ্মীর উপত্যকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল। হায়দারপোরা গ্রামে মৃত্যু হয়েছে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের।শ্রীনগরের গর্ভনমেন্ট চেস্ট হসপিটালে দিন তিনেক আগেই মৃত্যু হয় এই ব্যক্তির। তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।বৃহস্পতিবার একটি ট্যুইট করে এই বিষয়টি জানিয়েছেন শ্রীনগরের মেয়র জুনাইদ আজিম।এই নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ জনের মৃত্য়ু হল।৬৫ বছরের এই মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে সম্প্রতি যারা এসেছিলেন,তাঁদের মধ্যে আরও চারজনের শরীরেও করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে।এদের সবাইকে কোয়ারানটিন করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে এখনও পর্যন্ত মোট ৭০ জন কোয়ারানটিনে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাত জন চিকিত্‍সকও আছেন।

এদিকে এবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে পর্যটনকেন্দ্র গোয়াতেও। বৃহস্পতিবার গোয়ায় একসঙ্গে তিন জনের শরীরে কোভিড-১৯ এর অস্তিত্ব মিলেছে।এই তিন জনেই সম্প্রতি বিদেশ থেকে ভারতে ফেরেন।এই তিনজনের একজন স্পেন, অন্যজন অস্ট্রেলিয়া এবং আরও একজন আমেরিকা থেকে দেশে ফেরেন।পাশের রাজ্য মহারাষ্ট্রই এখনও পর্যন্ত দেশের মধ্যে সর্বাধিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।তবু এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকিয়ে রেখেছিল গোয়া।বৃহস্পতিবার ট্যুইট করে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত।আক্রান্ত তিন জনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।এরা সম্প্রতি কার কার সংস্পর্শে এসেছেন,তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পানাজির গোয়া মেডিক্যাল কলেজের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিত্‍সা চলছে এই তিনজনের।

অন্যদিকে করোনার জেরে দেশে ২১ দিনের লকডাউনে আর্থিক ক্ষতি সামলাতে প্যাকেজ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।করোনা লকডাউনে ব্যবসা বন্ধ, কলকারখানা বন্ধ। ধাক্কা খেয়েছে পর্যটনশিল্প।আর্থিক মন্দার মধ্যে খাঁড়ার ঘায়ের মতো করোনাভাইরাস ধাক্কা দিয়েছে দেশের সবকটি শিল্পকে।এই অবস্থায় আর্থিক প্যাকেজ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংবাদ সংস্থার খবর, ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার ২১ দিনের লকডাউনের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।তিনি নিজেও জানিয়েছেন,এর ফলে ধাক্কা খাবে দেশের অর্থনীতি।কিন্তু অন্য কোনও বিকল্প খোলা নেই।এমতাবস্থায় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আর্থিক প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর,অর্থমন্ত্রক ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া।তবে কত টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও। সূত্রের খবর, ২.৩ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ দেওয়া হতে পারে। আর একটি সূত্র বলছে, ১.৫ লক্ষ কোটি।সম্ভবত চলতি সপ্তাহের শেষেই আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।এর আগে,করোনা আক্রান্তদের চিকিত্সায় ১৫ হাজার কোটি টাকা খরচের অনুমোদন করেছেকেন্দ্রীয় সরকার।