দিল্লিতে শান্তি ফেরান, অমিতকে আর্জি মমতার

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:৫৪

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

অবিলম্বে রাজধানীতে শান্তি ফেরানের জন্য সচেষ্ট হতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভুবনেশ্বরে আন্তঃরাজ্য পরিষদের পূর্বাঞ্চলের বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফ থেকৈ কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে যোগ দিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভুবনেশ্বরে পৌঁছান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং ওডিশার নবীন পট্টনায়েক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাশাপাশি বৈঠকে ছিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়ামমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগাম এজেন্ডায় ছিল না, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে আলোচনা হয়নি।পরে আরও স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এছাড়াও রাজ্যের দাবি-দাওয়া নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এরমধ্যেই ১ মার্চ কলকাতায় আসছেন অমিত শাহ।নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সমর্থনে কলকাতার শহিদ মিনারে সভা করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ১ মার্চ বেলা ১১টায় দমদম বিমানবন্দরে নামার কথা অমিত শাহের। বিজেপি সূত্রে খবর, সেদিন শহিদ মিনারে জনসভা করা ছাড়াও দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।পাশাপাশি সেদিন কালীঘাটে যাবেন অমিত শাহ। কালীঘাটে মন্দিরে পূঁজা দিতে যাবেন তিনি। এর আগে কলকাতায় এলেও কালীঘাটে কখনও যাননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।এই প্রথমবার কালীঘাট মন্দিরে যাবেন অমিত।

মুখ্যমন্ত্রীর এলাকা কালীঘাট। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ইস্যুতে বিরোধিতার সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় কোনোভাবেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর হতে দেবে না বলে হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সমর্থনে কলকাতায় সভা করতে এসে অমিত শাহের কালীঘাটে যাওয়ার মধ্যে অন্য বার্তা লুকিয়ে আছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিনের কলকাতা সফরে শহিদ মিনারে জনসভা, দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক, কালীঘাট মন্দির দর্শন, সাংবাদিক বৈঠক- ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে অমিত শাহের।সব সেরে সেদিন রাতেই সাড়ে ৯টার বিমানে দিল্লি ফিরে যাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

এদিকে, ভুবনেশ্বরে আন্তঃরাজ্য পরিষদের পূর্বাঞ্চলের বৈঠক শেষে ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে যোগ দিয়েছিলেন, তিনি শুধু রায়তা খেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী অমিত মিত্র ও অরূপ বিশ্বাস। এর আগে ওডিশা গিয়ে প্রথমে পুরীর মন্দিরে পূঁজা দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।সেখানেই দিল্লি ইস্যুতে তিনি জানিয়েছিলেন, যা ঘটছে, তাতে তার মন কাঁদছে। সকলের মঙ্গলের জন্য পূঁজা দিয়েছেন।দেশের মানুষের শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছেন।এছাড়াও দিল্লির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ফেসবুকে নিজের লেখা একটি কবিতাও পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরমধ্যেই মহারাষ্ট্রের মুসলিমদের রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫% সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে বিল আনছে জোট সরকার। শুক্রবার ঘোষণা করেছেন রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী নবাব মালিক। বিধানসভার চলতি বাজেট অধিবেশনেই আনা হবে সেই বিল।

মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে মহা বিকাশ জোট সরকার গত ৩ মাস ক্ষমতায়। শেষ ৯০ দিনে তিন শরিকের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বন্দ্ব বাঁধলেও, এই সরকার ৫ বছর চলবে, এমনটা জানিয়েছে তিন পক্ষই। এদিকে, এনসিপি নেতা তথা মন্ত্রী নবাব মালিক বলেছেন, শিক্ষার পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে মুসলিম সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে তারা আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন। 

এর আগে, আদালতের নির্দেশ থাকলেও পূর্বতন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সরকার এই সংরক্ষণ কার্যকর করেনি। মন্ত্রী নবাব মালিক বলেছেন, চেষ্টা হচ্ছে এই অধিবেশনের শেষে মুসলিমদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ চালু করতে। ইতোমধ্যে শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের জন্য ৫০% কোটা বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেই কোটা মেনেই এই ৫% শতাংশ বরাদ্দ হবে বলে খবর। মারাঠাদের জন্য সে রাজ্যে সরকারি চাকরি ও শিক্ষায় সংরক্ষণ প্রথা কার্যকর করা হয়েছিল।

গত বছর জুনে মহারাষ্ট্রের বিজেপি-শিব সেনা জোট সরকারকে মারাঠাদের জন্য সংরক্ষণ চালু করতে অনুমতি দিয়েছিল।কিন্তু সরকারি তরফে ১৬% সংরক্ষণের দাবি নিয়ে আবেদন করা হয়েছিল।তবে সেটা ১৩% করে ছিল আদালত।মারাঠা সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে ৫০% করা হোক সংরক্ষণ বরাদ্দ।

পিডিএসও/তাজ