বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

দিল্লি : সরকারকে ভর্ৎসনা, রাতে বদলি বিচারপতিকে

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৩৬ | আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:৪১

পার্থ মুখোপাধ্যায়

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধরকে বদলি করা হয়েছে। তার এজলাসে চলছিল রাজধানীতে চলতি হিংসা মামলার শুনানি। বুধবারই এই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিলেন বিচারপতি এস মুরলীধর। তাকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মাঝরাতে নিজের বাসভবনে শুনানি ডেকে আহতদের নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন তিনি। ঘটনাচক্রে তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলেজিয়ামের নির্দেশ মেনে বিচারপতি মুরলিধরকে বদলি করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। দিল্লি হাইকোর্টের তৃতীয় প্রবীণতম বিচারপতি হলেন এস মুরলীধর। তাকে বদলির বিষয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি সুপারিশ করেছিল সুপ্রিম কোর্টের কলিজিয়াম। এর ঠিক দু'সপ্তাহ পরে বুধবার রাতে কেন্দ্রের তরফে বিচারপতি এস মুরলীধরের বদলির নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২২১(১) ধারায় অর্পিত ক্ষমতা বলে দেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধরকে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করছেন রাষ্ট্রপতি।

গত সপ্তাহেই বিচারপতি এস মুরলীধরের বদলির নিন্দা করেছিল দিল্লি হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন। এই পদক্ষেপ প্রত্যাহারের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের কাছে দাবি জানিয়েছিল তারা। কিন্তু সেই আপত্তি শেষপর্যন্ত ধোপে টিকল না।

এর আগে উত্তরপূর্ব দিল্লিতে চলতি হিংসার ঘটনায় বুধবার সকালে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দিল্লি হাইকোর্ট। গোটা ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লি সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে ভর্ৎসনা করেছিল বিচারপতি এস মুরলীধর এবং তালওয়ান্ত সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি এস মুরলীধর বলে ছিলেন,আমরা কেউ চাই না আরেকটা চুরাশির শিখবিরোধী দাঙ্গা হোক।

এদিকে উত্তরপূর্ব দিল্লিতে চলতি হিংসায় মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। শেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম দুই শতাধিক ব্যক্তি। এর মধ্যে বেশ কয়েকজনের আঘাত গুরুতর।

পিডিএসও/হেলাল