ভারতকে শুল্কের রাজা বললেন ট্রাম্প

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:২৭

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

ভারত সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে না, এমনটাই জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের সঙ্গে বড় বাণিজ্য চুক্তি পরে হবে, তবে নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেও তা হবে কিনা তাও স্পষ্ট করে জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বড় বাণিজ্য চুক্তি হবে। তবে সেই চুক্তি পরে করার জন্য আপাতত সরিয়ে রেখেছেন। জানেন না নভেম্বরের আগে তা হবে কিনা।

একইসঙ্গে ভারতকে শুল্কের রাজা বলে আগেও সম্বোধন করেছেন তিনি। সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, বাণিজ্য ক্ষেত্রে ভারত তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে না।

আগামী সপ্তাহেই ভারত সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি চলছে। তার আগে তার এমন মন্তব্যে কার্যতই অস্বস্তিতে সাউথ ব্লক।

২৪ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে দুদিনের ভারত সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার উপস্থিতিতে দু’দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি হওয়ার কথা। কিন্তু নানা বিষয়ে মতানৈক্য ধরা পডেছে দু’দেশের মধ্যে। যেমন, দিল্লি চায় ভারতীয় ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের উপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করুক ওয়াশিংটন। বিনা শুল্কে মার্কিন বাজারে নির্দিষ্ট কিছু ভারতীয় পণ্যকে ঢুকতে দেওয়া হোক। একই ভাবে ভারতে স্বাধীন ভাবে কৃষিজাত পণ্য এবং চিকিৎসা যন্ত্রাংশের ব্যবসা করতে চায় মার্কিন সরকার। ডিজিটাল পণ্যসহ তাদের একাধিক পণ্য থেকে ভারত শুল্ক প্রত্যাহার করুক, এমনটাও দাবি তাদের। অতীতেও এ নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ট্রাম্প।

মার্কিন বাজারে ভারত বিশেষ সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও, ভারতীয় বাজারে মার্কিন পণ্যকে শুল্কছাড় দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রিন্স জর্জ কাউন্টিতে একই কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ভারত আমাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে না।

অন্যদিকে, দু’দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির মূল সুরটি বাঁধতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগেই ভারতে এসে পৌঁছনোর কথা ছিল মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথিজ়ারের। সেই মতো বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার কথাও হয়েছে তার। কিন্তু তাতেও দু’দেশের মধ্যে কাঁটা হয়ে থাকা সমস্যাগুলির সমাধানসূত্র বেরোয়নি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, রবার্ট লাইথিজ়ারের ওই প্রস্তাবিত সফরই অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণে বাণিজ্য চুক্তি ঘিরেও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল