বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:২৮

পার্থ মুখোপাধ্যায়

বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলির চলতি সপ্তাহের তালিকায় ভারতকে ১০ ধাপ নিচে নামিয়ে দিয়েছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের শাখা দ্য ইকোনমিস্ট। অসহিষ্ণু ভারত বলে নিজেদের নতুন প্রচ্ছদ তৈরি করে সিএএ বা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকরণ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে দ্য ইকোনমিস্ট।

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসাবে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে, এভাবেই তোপ দেগেছে দ্য ইকোনমিস্ট। তাদের সাম্প্রতিক সংস্করণ অনুযায়ী, ভারতের ২০০ বিলিয়ন মুসলমানরা এই ভেবে ভয় পাচ্ছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্র হিসাবে গঠন করতে চাইছেন। দেশজুড়ে যখন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন চলছে, ঠিক সেই সময় সেই নাগরিকত্ব বিতর্ক তথা হিন্দুত্ববাদের ধারণাকে আরও একটু উস্কে দিয়েছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের শাখা দ্য ইকোনমিস্ট।

দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, বিভাজন তৈরির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন। প্রচ্ছদটি টুইট করে লেখা হয়েছে, জানুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং তার দল কীভাবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে বিপন্ন করছে। ৮০-এর দশকে রাম মন্দিরের আন্দোলনের মাধ্যমে বিজেপির উত্থানকে চিহ্নিত করে প্রবন্ধটি যুক্তি দেখিয়েছে যে, নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি ধর্মীয় রাজনীতি করে বিভেদ সৃষ্টি করে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালের আগে আগত অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিরোধীদের মতে, এই আইন বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে বর্ণিত দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পরিপন্থী। 

এদিকে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ভারতে কার্যকর হওয়ার ঘোষণার পরেই সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে রেকর্ড পরিমাণ অনুপ্রবেশকারী, এমনটাই দাবি করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ।

পিডিএসও/হেলাল