মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে কঠোর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

প্রকাশ | ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:০৩

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা জলদি কার্যকর করার ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বুধবারই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে একটি গাইডলাইন আনতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্র। আইনি বিকল্পগুলি প্রয়োগ করার জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার জন্য শীর্ষ আদালতে আবেদন জানানো হয়। এক দিন পরেই, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, এভাবে সব বিষয় নিয়ে সীমাহীন লড়াই করা যায় না।

দেশের প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদে বলেছেন, শুধু মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া নয়, তা কার্যকর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেছেন, একজন প্রমাণিত অপরাধী যেন মনে না করে যখন খুশি মৃত্যুদণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করে তার সময় পিছিয়ে দেওয়া যায়। জঘন্য অপরাধের পরেও অপরাধীকে বিচার প্রক্রিয়াকে ইচ্ছেমতো পিছিয়ে দিয়ে একের পর আবেদন করে যায় বলে সুপ্রিম কোর্টে জানায় কেন্দ্র।

কেন্দ্রের আবেদন, মৃত্যু পরোয়ানা জারি হওয়ার পর আসামি যেন ৭ দিনের মধ্যে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানায়, সে মর্মে নির্দেশ দিক সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রের আরও বক্তব্য, প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে যাতে রাজ্য সরকার ও জেল কর্তৃপক্ষ মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন, সে ব্যবস্থাও করুক সর্বোচ্চ আদালত।

এখন ঘটনা হল, নিম্ন আদালতের রায় অনুযায়ী বুধবারই ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল নির্ভয়ার ৪ ধর্ষকের। কিন্তু তাদের একজন গত সপ্তাহে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানানোতে পিছিয়ে যায় ফাঁসির তারিখ। তার আবেদন খারিজ হয়েছে ঠিকই। কিন্তু শীর্ষ আদালতের এক পুরোনো রায় অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে অপরাধীদের ১৪ দিন সময় দিতে হয়। সে হিসেবে নতুন তারিখ স্থির হয়েছে ১ ফেব্রুয়ারি।

এদিকে, ঠোঁটকাটা হিসেবে পরিচিত বলিউডের অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত এবার নির্ভয়ার হত্যাকারীদের প্রসঙ্গে মতামত দিতে গিয়ে শীর্ষ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংকে আক্রমণ করেছেন।

ইন্দিরা জয়সিং এক সময়ে নির্ভয়ার মা আশা দেবীর উদ্দেশে ট্যুইট করে লিখেছিলেন, আশা দেবীর যন্ত্রণা খুব ভালো বুঝতে পেরেও তার কাছে আর্জি জানাচ্ছেন, তিনি যেন সোনিয়া গান্ধীর পথ অনুসরণ করেন। রাজীব গান্ধীর হত্যাকারী নলিনীকে ক্ষমা করেছিলেন সোনিয়া গান্ধী। বলেছিলেন, তিনি তার মৃত্যুদণ্ড চান না। আশা দেবীও যাতে তার কন্যার ধর্ষকদের ক্ষমা করে দেন, সেই আর্জি জানিয়েছিলেন শীর্ষ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং। তার সেই আর্জির জবাবেই তাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কঙ্গনা।

বলেছেন,অপরাধীদের সঙ্গেই তাকে জেলে রাখা উচিত। কিভাবে এই মহিলা অপরাধীদের প্রতি সমব্যাথী হতে পারেন? এ ধরনের মহিলারাই এমন দানবের জন্ম দেন। নির্ভয়ার খুনিদের সর্বসমক্ষে ফাঁসি দেওয়া উচিত বলে জানিয়ে কঙ্গনা রানাওয়াত আরও বলেছেন, যে এমন নৃশংস অপরাধ করেছে, তাকে নাবালক বলা চলে না।দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য তাকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া উচিত।

কঙ্গনা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই লড়াই লড়ছেন নির্ভয়ার বাবা-মা। নিঃশব্দে এই অপরাধীদের মেরে কোনো লাভ হবে না। কারণ সেভাবে কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যাবে না।

পিডিএসও/তাজ