রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি শুরু আজ : বিশ্ববাসীর চোখ হেগে

আদালতের কাঠগড়ায় সু চি

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১০ | আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা নিয়ে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) শুনানি শুরু হচেছ আজ মঙ্গলবার। চলবে তিন দিন। আর এই শুনানিতে অংশ নিতে হেগে পৌঁছেছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা ইস্যুতে নভেম্বরে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে গাম্বিয়া।

ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ সদস্যের বিচারক প্যানেলের সামনে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সু চি কী বলবেন—এ নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে তার অবস্থান। কারণ আগামী বছর মিয়ানমারে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন সামনে রেখে সু চি তার কৌশল ঠিক করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে সু চি সেনাদের পক্ষেই ওকালতি করবেন বলে মিয়ানমারের স্থানীয় মিডিয়া ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানিতে গাম্বিয়ার পক্ষে লড়বেন ব্রিটিশ শিক্ষায় শিক্ষিত সেদেশের আইনমন্ত্রী আবুবাকর তামবাদাউ। গাম্বিয়ার এই মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের খতম করার জন্য সেনাবাহিনী নৃশংসতা শুরু করে। এর ফলে বাধ্য হয়ে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে যায়। এদের কাছ থেকে নৃশংসতার যে কাহিনি বিশ্ব শুনেছে, তা নিশ্চিত গণহত্যার শামিল।

শুনানিতে গাম্বিয়ার দাবিকে জোরালো করতে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ, কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে এই মামলার শুনানিতে এ তিন দেশের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। তাই তারা নেপথ্যে থেকে গাম্বিয়াকে এই সহযোগিতা দেবে। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের কূটনৈতিক সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হেগের স্থানীয় সময় ১০-১২ ডিসেম্বর (বাংলাদেশ সময় ১১-১২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত বিশ্ববাসীর নজর থাকবে এই আন্তর্জাতিক আদালতের শুনানির ওপর।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। সামরিক বাহিনীর জ্বালাও-পোড়াও, খুন, ধর্ষণের মুখে ৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। মিয়ানমার সামরিক বাহিনী গণহত্যার অভিপ্রায়ে এই অভিযান পরিচালনা করেছে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ।

মিয়ানমারকে বয়কটের ডাক ৩০ মানবাধিকার সংস্থার

রোহিঙ্গা মুসলিমদের সমর্থনকারী মানবাধিকার সংগঠনগুলো মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসে বেশ কয়েকটি বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেখানে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি দলের পাশাপাশি সরকার সমর্থকরা বিক্ষোভ করবে। ‘ফ্রি রোহিঙ্গা জোট’ নামের একটি সংগঠন বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ১০ দেশের ৩০টি সংগঠন নিয়ে ‘বয়কট মিয়ানমার অভিযান’ শুরু করছে। মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। হেগে আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার শুনানি শুরুর এক দিন আগে গতকাল সোমবার বৈশ্বিক এ বয়কটের ডাক দিল মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

হেগে পৌঁছেছেন সু চি

এ মামলায় মিয়ানমারের পক্ষে লড়াইয়ের জন্য গত রোববার দ্য হেগে পৌঁছেছেন অং সান সু চি। সু চির কার্যালয় নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে চিফল বিমানবন্দরে তার পৌঁছানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছে। এতে দেখা যায়, নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। পরে সেখান থেকে হেগের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের একাধিক প্রবাসী গোষ্ঠী হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার মামলার শুনানি চলাকালে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে। মিয়ানমার সরকারের সমর্থনেও সেখানে সমাবেশের পরিকল্পনা করছেন মিয়ানমারের নাগরিকরা। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যার অভিযোগ এনে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছোট্ট দেশ গাম্বিয়া।

টার্নিং পয়েন্টে রোহিঙ্গা সংকট

রোহিঙ্গা সংকট শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আদালতে গড়াল। আইসিজের শুনানিতে বাদী গাম্বিয়া এবং বিবাদী মিয়ানমার উভয়েই আইনজীবী নিয়োগ করেছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও হেগে পৌঁছেছে। মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্টেট কাউন্সিলর নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চি। গাম্বিয়ার পক্ষে লজিস্টিক সহায়তা দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকেও একটি প্রতিনিধিদল গেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাৎপর্যপূর্ণ টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছাল রোহিঙ্গা সংকট। বিশ্ববাসী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানাচ্ছে। তারা মনে করছেন, এবার আন্তর্জাতিক আদালত থেকে বিষয়টি সমাধানে একটি যৌক্তিক দিকনির্দেশনা আসতে পারে; যা মিয়ানমারকে চাপে ফেলতে পারে। কারণ এরই মধ্যে প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার আন্তরিক নয়। তারা সম্প্রদায়টিকে নির্মূল করতে গণহত্যা চালিয়েছে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে দেশটির ওপর চাপ বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হেগের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে দেশটির মিত্র চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সু চি।

গত ২১ নভেম্বর সু চি রোহিঙ্গাদের গণহত্যার অভিযোগে করা মামলায় আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে তিনি নিজে তাদের আইনি দলের নেতৃত্ব দেবেন। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবিক ও মানবাধিকার বিষয়ে বিশ্বব্যাপী খ্যাতিমান আইনজীবী প্রফেসর স্যার উইলিয়াম এ শাহবাসকে মিয়ানমারের পক্ষে নিযুক্ত করা হয়েছে। কানাডীয় ও আইরিশ নাগরিক আইনজীবী প্রফেসর শাহবাস মানবিক ও মানবাধিকার প্রশ্নে কসোভোতে গণহত্যা হয়েছে বলে মনে করেন না। রোহিঙ্গাদের বিপক্ষেও তার অবস্থান একই রকম।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া গত ১১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে মামলাটি করে। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে রাখাইনে গণহত্যা, দলবদ্ধ ধর্ষণসহ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে ওই মামলায়। আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে গাম্বিয়ার করা মামলা শুনানির জন্য বাংলাদেশ সময় ১১ ও ১২ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনে শুনানিতে অংশ নেবে গাম্বিয়া আর দ্বিতীয় দিনে মিয়ানমার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ল’ ফার্ম ফলি হককে গাম্বিয়া আইনজীবী নিযুক্ত করেছে। এই ফার্মটি মিয়ানমার ও ভারতের বিপক্ষে সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করেছেন। গাম্বিয়ার পক্ষে এই ফার্মের প্রধান আইনজীবী পায়াম আখাবানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। আইসিজেতে মিয়ানমারের বিপক্ষে করা মামলায় বাংলাদেশ সরাসরি কোনো পক্ষ নয়। তবে গাম্বিয়ার পক্ষে এ ব্যাপারে লজিস্টিক সহায়তা দেবে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মাসুদ বিন মোমেন বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে নেদারল্যান্ডসের হেগে গেছেন।

তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। জাতিসংঘে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। এ কারণে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে তাকেই হেগে পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে তিন দিনের শুনানিতে জাতিসংঘ নিযুক্ত ১৬ জন বিচারক প্যানেল উভয়পক্ষের আইনজীবীদের প্রশ্ন করবেন। আদালত রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় পরিপূর্ণ শুনানির আগে অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে পারেন। জাতিসংঘের অধীনে দুই ধরনের আন্তর্জাতিক আদালত আছে। একটা হলো ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট’ (আইসিসি) এবং অপরটি হলো ‘ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিজ’ (আইসিজে)। কোনো ব্যক্তি আন্তর্জাতিক ফৌজদারি অপরাধ করলে তার বিচার ও সাজা নির্ধারণ করে আইসিসি। রোম চুক্তিতে যেসব দেশ সই করেছে, সাধারণত ওই দেশগুলোর কেউ গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ করলে অপরাধী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিসহ সাজা দিতে পারে আইসিসি। বাংলাদেশ রোম চুক্তিতে সই করলেও মিয়ানমার এতে সই করেনি। আইসিসিতে এ কারণে বিচারে কিছুটা অসুবিধা থাকলেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সুপারিশ করলে আইসিসি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংগঠিত অপরাধের বিচার করতে পারে।

অপরদিকে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার সময়ই ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আইসিজে। দুই দেশ কোনো বিরোধে জড়ালে আইসিজে শুনানি গ্রহণ করে রায় দিতে পারে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমার ও গাম্বিয়া পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়বে। আইসিজে রায়ে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বলতে পারে। কিংবা আইসিজে বলতে পারে যে, রোহিঙ্গারা ঐতিহ্যগতভাবে মিয়ানমারের নাগরিক হওয়ার যোগ্য, তাই তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন আন্তর্জাতিক এ আদালত। তবে আইসিজে রায় কার্যকর করতে পারে না। মিয়ানমার, গাম্বিয়া, বাংলাদেশ আইসিজের সদস্য। ফলে রায় সদস্য দেশগুলো নিজেরা কার্যকর করতে পারে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রায় কার্যকরে পদক্ষেপ নিতে পারে।

আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী কোনো সদস্য দেশ রায় কার্যকরে বলপ্রয়োগও করতে পারে। যদিও ফিলিস্তিনের পক্ষে আইসিজে রায় দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র বরং উল্টো ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পক্ষে রয়েছে।

আইসিজেতে গাম্বিয়াকে সহায়তা করবে ৩ দেশ

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানিতে গাম্বিয়ার দাবিকে জোরালো করতে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ, কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) এ মামলার শুনানিতে এই তিন দেশের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। তাই তারা নেপথ্যে থেকে গাম্বিয়াকে এই সহযোগিতা দেবে।

২৭ মাস আগে রাখাইনে ঘটে যাওয়া রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার চেয়ে গত ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে গাম্বিয়া। নেদারল্যান্ডসের পিস প্যালেসে আজ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে এই মামলার তিন দিনের শুনানি। এই শুনানি সামনে রেখে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের গতকাল সোমবার হেগে যাওয়ার কথা। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ওআইসির অন্যতম সদস্য এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানকারী দেশ হিসেবে আদালতে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল সেখানে যাচ্ছে। বিচারের প্রক্রিয়ায় গাম্বিয়ার প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ মতবিনিময় করবে।

আইসিজেতে শুনানির সময় গাম্বিয়াকে সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শহীদুল হক বলেন, ওআইসির অন্যতম সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এরই মধ্যে গাম্বিয়ার অনুরোধ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে। গাম্বিয়ার প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা দেবে।

নেদারল্যান্ডসের একটি কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পাশাপাশি কানাডা ও নেদারল্যান্ডসও গাম্বিয়াকে নেপথ্যে থেকে সহায়তা করবে। বিশেষ করে এবার আইসিজের শুনানি হবে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার স্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপের বিষয়ে। জনসমক্ষে প্রকাশিত ও প্রচারিত তথ্যের ভিত্তিতে গাম্বিয়া আদালতে মিয়ানমারের বিপক্ষে নিজের যুক্তি তুলে ধরবে। আর গাম্বিয়ার সেই যুক্তি খন্ডন করবে মিয়ানমার। পরে মিয়ানমারের বিপক্ষে পাল্টা যুক্তি তুলে ধরবে গাম্বিয়া। এর আগে বাংলাদেশ ও কানাডার কাছ থেকে রোহিঙ্গা গণহত্যা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি এ-সম্পর্কিত পর্যবেক্ষণ জানতে চাইবে গাম্বিয়া। তবে আদালতে গাম্বিয়া যে বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করবে, তা অবধারিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশিত তথ্য হতে হবে।

কানাডার একটি কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এরই মধ্যে গাম্বিয়াকে আইসিজেতে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ফলে রাখাইনে গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গাম্বিয়াকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে তৈরি আছে কানাডা।

পিডিএসও/হেলাল