শেখ হাসিনা-মমতার সৌজন্য বৈঠক

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৮

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে ভারতের মানুষজনের জন্য শুভেচ্ছা নিয়ে এক দিনের ঝটিকা সফরে কলকাতা ঘুরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর ক্রিকেটের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার যে বৈঠকের দিকে উপমহাদেশের রাজনীতিকরা তাকিয়ে ছিলেন, সে বিষয়ে সরকারিভাবে একটাও শব্দ উচ্চারণ করা হয়নি।

এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিটের বৈঠক, তারপরও মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠককে সৌজন্য বৈঠক বলে বর্ণনা করেছেন। মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, এই বৈঠক সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক। দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক খুব ভালো। আমাদের সম্পর্কও খুব ভালো। অনেকক্ষণ আলোচনা হলো। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আবার রাজ্যে আসতে বলেছি। আমাদের সম্পর্ক যেন সব সময় ভালো থাকে, সেটাই চাই। একেবারে ঘরোয়া আলোচনা হয়েছে।

আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের সময় এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে বলেছেন, দুদেশের মধ্যে এখন সবচেয়ে ভালো সময় চলছে। বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলির আমন্ত্রণে তিনি কলকাতায় এসেছিলেন জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করি আমাদের ক্রিকেট ভালো হবে শিগগির।

তিস্তা চুক্তিসহ ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় যেসব বিষয় এখনো অমীমাংসিত, তার অনেকগুলোই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আলাদা করে কথা বলুন— এমনটাই চেয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। বস্তুত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তেমনটাই চেয়েছেন। তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে একসঙ্গে থাকার কথা থাকলেও পরে সরে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগে কথা থাকলেও গোলাপি টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আসছেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাজবেঙ্গল হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাতে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি তোলেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে দিল্লির নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে ঢাকা। এ বিষয়ে সহমত তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময়েও মোদি সরকার আশ্বাস দিয়েছে। তিস্তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর যে ভিন্নমত রয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। মমতা বন্দোপাধ্যায় এর আগে বহুবার জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো জলবণ্টন চুক্তি তিনি চান না।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, তিস্তা এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত বেশ কয়েকটি নদীর জল প্রবাহ নিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায় কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। বলেছেন, শুকনো মৌসুমে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশের নদীগুলোতে জল না থাকার কথাও।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে কিছু প্রস্তাব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে কলকাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িগুলো এবং কলকাতায় স্বাধীন বাংলা সরকারের সদর দফতর বলে চিহ্নিত বাড়ির সংরক্ষণ। আগামী বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ। তার ছাত্রজীবন যেমন এই কলকাতায় কেটেছে, প্রবাসী সরকারের রাজধানীও ছিল কলকাতার থিয়েটার রোডের একটি বাড়িতে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চান বঙ্গবন্ধুর স্মারক ভবনগুলোর সঙ্গে ওই বাড়িটিও সংরক্ষণ করে প্রদর্শনশালা করা হোক।

এ বিষয়ে একেবারে মৌখিকভাবে মমতার কাছে হাসিনা কিছু প্রস্তাব দেওয়া মাত্র তাতে সম্মতি দিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। জানিয়েছেন, কলকাতা পৌরসভার তরফে যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টির সমাধান করা হবে। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। মমতা নিজে বিষয়গুলো নজরে রাখবেন বলে শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন। মমতার জন্য তার প্রিয় হাল্কা রঙের জামদানি শাড়ি ও মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাকে পাল্টা বাংলার শাড়ি উপহার দেন মমতাও।

পিডিএসও/তাজ