রায় ঘোষণা

বাবরি মসজিদের জমিতে হবে মন্দির, মসজিদের জন্য আলাদা জমি

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৪৩

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত মোগল আমলে তৈরি বাবরি মসজিদের জমির মালিকানা নিয়ে মামলার রায় ঘোষণা করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেশটির প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, ভারতের অযোধ্যায় বিতর্কিত জমিতে নির্মাণ করা হবে রাম মন্দির। আর বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য ৫ একর জমি মুসলিমদের আলাদাভাবে দেওয়া হবে। অযোধ্যার বিতর্কিত জমিটি নিয়ে নিম্ন আদালতে মামলা দায়ের হওয়ার ঠিক ৭০ বছর পর রায় দিলো ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

রায় পড়ার সময় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে জমির মালিকানা ঠিক করা সম্ভব নয়। কাঠামো থেকে কোনো কিছুর মালিকানা দাবি করা যায় না। কারও বিশ্বাস যেন অন্যের অধিকার হরণ না হয়।

তিনি বলেন, ভারতের প্রত্মতাত্ত্বিক সংস্থা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার খননের ফলে যে সব জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছে, তাতে স্পষ্ট, সেগুলো ইসলামিক নয়। প্রায় আধা ঘণ্টা সময় ধরে কয়েক দশকের পুরোনো এই মামলায় রায় পড়ে শোনান প্রধান বিচারপতি। এ সময় তিনি বলেন, যে রায় ঘোষণা করা হলো; তা বিচারক বেঞ্চের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।

১৯৯২ সালে কট্টর হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার পর হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল।

বাবরি মসজিদ আর রাম মন্দির নিয়ে বিতর্ক কয়েক শতাব্দী ধরে। এ নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বারে বারে দাঙ্গা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার ভেতরের অংশটা মুসলিমদের আর বাইরে চত্বরটা হিন্দুদের ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৯ সালে মসজিদের ভেতরে কে বা কারা রামের মূর্তি রেখে দেয়। মুসলিমরা তখনই প্রতিবাদ করেন এবং সরকার জমিটিকে বিতর্কিত ঘোষণা করে তালাবন্ধ করে দেয়।

এরপর জমির মালিকানা কার সেটা ঠিক করতে সেবছরই আদালতে প্রথম মামলা হয়। পরে ফৈজাবাদের জেলা আদালত ১৯৮৬ সালে তালা খুলে হিন্দুদের পূজার অনুমতি দেন। আর তখন থেকেই সেখানে আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে।

পিডিএসও/তাজ