চরম চাপে পাকিস্তান, দাবি ডোভালের

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৩৩

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া ও রাষ্ট্রনীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে হাতিয়ার করার অভিযোগে পাকিস্তানের তীব্র নিন্দা করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা, এনআইএ’র এক অনুষ্ঠানে অজিত ডোভাল বলেছেন, যদি কোনও অপরাধী রাষ্ট্রের সাহায্য পায়, তাহলে সেটা বড় চ্যালেঞ্জ। কয়েকটি রাষ্ট্র এই কাজে মাস্টার। ভারতের ক্ষেত্রে পাকিস্তান রাষ্ট্রনীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে হাতিয়ার করেছে।

সম্প্রতি প্যারিসে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে পাকিস্তান যথেষ্ট চাপের মুখে পড়ে বলে জানিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সেখানে যা হয়েছে তাতে সবচেয়ে বড় চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তান। তিনি দাবি করেছেন, পাকিস্তানের উপর এতটাই চাপ সৃষ্টি হয়েছে যে, এরপর আর কিছুই বলতে পারবে না পাকিস্তান। যুদ্ধ প্রসঙ্গে অজিত ডোভাল বলেছেন, যুদ্ধে যে পরিমাণ অর্থ ও মানুষের ক্ষতি হয়, তাতে কেউই এখন যুদ্ধ চায় না। আর যুদ্ধে কে জিতবে, সেটাও নিশ্চিত থাকে না। জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এনআইএ’র লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন অজিত ডোভাল।

এদিকে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আরও সেনা বাড়িয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর থেকে জম্মু-কাশ্মীরে অশান্তি ও সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টায় অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশের সংখ্যা।

নর্দান আর্মি কমান্ডার লেফট্যানেন্ট জেনারেল রণবীর সিং জানিয়েছেন,সরকারের কঠোর সিদ্ধান্তের পর থেকেই উপত্যকার সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাস ছড়ানোর সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। প্রায় প্রত্যেকদিনই সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন এবং অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। নর্দান কমান্ডের বাইরে থেকেও ফোর্স আনানো হয়েছে। সীমান্তের কোনও অংশ অরক্ষিত নেই।বাহিনী সূত্রের খবর, উধমপুরে কর্তব্যরত সেনার নর্দান কমান্ড জম্মু-কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদবিরোধী সব কাজের জন্যে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, চলতি বছরে সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশের ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩১৭ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৬২৯ এবং ২০১৭ সালে মাত্র ৮৬০। গোয়েন্দাসূত্রে জানানো হয়েছে কুপওয়ারা, বারামুল্লা, পুঞ্চ এবং রাজৌরি সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর যেসব সন্ত্রাসবাদী ক্যাম্প ও লঞ্চ প্যাড রয়েছে সেখানে অন্তত ৫০০ সন্ত্রাসবাদী রয়েছে। এছাড়াও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ সন্ত্রাসবাদী।

অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা রোখার কৌশল হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরে মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু বাস্তবে তা কতটা সম্ভব হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেলেও, এবার কথা মত সোমবার থেকে কাশ্মীরের দশটি জেলাতেই ফের চালু হল সমস্ত পোস্টপেইড মোবাইল পরিষেবা। মোট ৬৬ লক্ষ মোবাইল গ্রাহকের মধ্যে এদিন মোট ৪০ লক্ষ পোস্টপেইড গ্রহক নতুন করে পেতে শুরু করেছেন পরিষেবা। এর আগে শনিবার রাজ্যের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি রোহিত কানসাল ঘোষণা করেছিলেন সোমবার বেলা ১২টা থেকে কাশ্মীরের চালু হতে চলেছে সমস্ত পোস্টপেইড মোবাইল পরিষেবা। সেই কথা মত পোস্টপেইড মোবাইল চালু হলেও ইন্টারনেটে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকছেই।

৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার, তার আগের দিন থেকেই মোবাইল, ইন্টারনেটসহ সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় ওই রাজ্যের। ধীরে ধীরে ল্যান্ডলাইন যোগাযোগ ফেরানো হলেও মোবাইল ও নেট সংযোগ না ফেরানোয় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়েছিল ভূস্বর্গ। এর আগে ১৭ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মোট ৫০ হাজার ল্যান্ডলাইন ফোনে পরিষেবা চালু হয়েছে।

অতি সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে পর্যটকদের জন্যও ভূস্বর্গের দ্বার খুলে দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, দপ্তর, দোকানপাট, ব্যবসা, সমস্ত ক্ষেত্রকেই স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন। রাজ্যের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি রোহিত কানসাল-ও ফের দাবি করেছেন, ১৬ আগস্ট থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা শুরু হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের শুরুর মধ্যে বেশিরভাগ এলাকা নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হয়ে গেচে।

প্রশাসনের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরের ৯৯ শতাংশেরও বেশি এলাকাতে চলাফেরার উপর আর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।

পিডিএসও/তাজ