মানহানি মামলায় আদালতে রাহুল গান্ধীর চক্কর

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:২৫

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

মানহানি মামলায় প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, তিনি কোনো দোষ করেননি ।লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন এপ্রিল মাসে কর্নাটকের এক জনসভায় বক্তৃতা করার সময় দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত, দেশত্যাগী ললিত মোদি এবং নীরব মোদির কথা টেনে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে ছিলেন তিনি।

রাহুল বলেছিলেন, নীরব মোদি, ললিত মোদি, নরেন্দ্র মোদি, ওদের সবার পদবিই মোদি কেন? সব চোরের নামেই কি মোদি থাকে! তার শুনানিতে সুরতের এক আদালতে হাজিরা দিয়েছেন কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ৪৯৯ এবং ৫০০ ধারায় অপরাধমূলক মানহানির মামলা দায়ের করেন পশ্চিম সুরাতের বিজেপি এমএলএ পূর্ণেশ মোদি। সমগ্র মোদি সম্প্রদায়কে রাহুল অপমান করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

কংগ্রেসের দাবি, নরেন্দ্র মোদি চোর বলেননি রাহুল। বরং দুর্নীতিগ্রস্ত ললিত মোদি এবং নীরব মোদিকে রুখতে নরেন্দ্র মোদির ব্যর্থতাকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন। যদিও কংগ্রেসের এই যুক্তিতে আমল দিতে নারাজ বিজেপি।তবে এটাই প্রথম নয়, এ বছর একাধিক মানহানি মামলা দায়ের হয়েছে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। নোটবন্দির সময় বেআইনিভাবে পুরনো ৭৫০ কোটি টাকার বাতিল নোট পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তোলায় কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে  মামলা করেছেন আমদাবাদ জেলা সমব্যয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান অজয় পটেল।

শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতেও হাজিরা দেবেন রাহুল গান্ধী।আদালতে তার বয়ান রেকর্ড হয়ে গেলে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া থেকে পাকাপাকিভাবে রাহুলের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জমা দেন তার আইনজীবীরা। আগামী ১০ ডিসেম্বর সেই আবেদনের শুনানি। রাহুল আদালতে না এলেও চলবে বলে জানিয়ে দেন বিচারপতি।

অন্যদিকে শুক্রবার ভারতে আসছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ঘরোয়া আলোচনা হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। কিন্তু তার আগে কাশ্মীর নিয়ে বেইজিং যে বিবৃতি জারি করেছে, তা নিয়ে শুধু সরকার নয়; ক্ষুব্ধ বিরোধী রাজনৈতিক দলও। কেন্দ্রকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তোপ দেগেছে কংগ্রেস।

কংগ্রেসের মুখপাত্র মণীশ তিওয়ারি টুইটে জানিয়েছেন, কাশ্মীর নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ করছে বলে চীন জানিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দফতর বা বিদেশমন্ত্রক কেন প্রশ্ন করছে না যে ভারতও হংকংয়ের বিক্ষোভ, জিজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, তিব্বতে দমননীতি কিংবা দক্ষিণ চীন সাগরে আগ্রাসনের উপর কড়া নজর রাখছে। অর্থাৎ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মোদি সরকার যে কড়া মনোভাব পোষণ করে, চীনের ক্ষেত্রেও তা করা উচিত বলে স্পষ্ট করেছে কংগ্রেস।

এর আগে নতুন দিল্লির তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট  করা হয়েছে ,কাশ্মীর সমস্যা একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে অন্য কোনো দেশের নাক গলানো বরদাস্ত করবে না।

পিডিএসও/তাজ