কাশ্মীর ভারতের রাজ্য, বললেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী!

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৪৪ | আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:১২

পার্থ মুখোপাধ্যায়
বেফাঁস মন্তব্যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেসি

জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই রাজ্য, জাতিসংঘের বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সামনে স্বীকার করে নিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেসি। জম্মু-কাশ্মীরকে গত ৭২ বছর ধরে ভারত অধিকৃত কাশ্মীর বলে দাবি করে আসছে পাকিস্তান। ভারত সরকার বিভিন্ন ফোরামে বারবার জানিয়েছে এবং দাবির সপক্ষে প্রমাণ দিয়ে জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাতিসংঘের বৈঠকের ফাঁকে ভারতের সেই দাবিই এবার মেনে নিয়েছেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী!

শাহ মাহমুদ কুরেসি বলেছেন, ওরা বলছে, জম্মু-কাশ্মীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। তাহলে কেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং এনজিওকে ভারতের রাজ্য জম্মু-কাশ্মীরে অনুমতি দিচ্ছে না? ভারত মিথ্যা বলছে, কারফিউ উঠে গেলে বিশ্ব দেখতে পারবে। বস্তুত উত্তেজনার বসে কথার বাঁধন হারিয়ে ফেলে ইতোমধ্যে দেশে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অন্যদিকে, মাসখানেক আগে ইদের দিন নিরাপত্তার ঘেরাটোপ থেকে কিছুটা মুক্তি মিলেছিল, কিন্তু মহরমে কার্যত থমথমে ছিল কাশ্মীর। মহরমের প্রস্তুতি হিসাবে রাস্তার ধারে কালো পতাকা টাঙানো হয়েছিল। কিন্তু, শোভাযাত্রার বদলে মঙ্গলবার পথঘাট ছিল জনশূন্য। বদলে প্রতি পাঁচশো মিটার অন্তর দেখা গিয়েছে ব্যারিকেড। মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে আধা সামরিক বাহিনী। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ ও তা নিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মহরমের মিছিলের জন্য এবার অনুমতি দেয়নি উপত্যকার প্রশাসন।

স্থানীয়দের অনেকের মতেই, নব্বইয়ের দশকের কঠিন সময় বা তারপরেও মহরমের দিন এমন ছবি কাশ্মীরে দেখা যায়নি। উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতির উপর নজর রেখেই যেকোনো ধরনের জমায়েত বা শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মূল রাস্তাকে বাদ দিয়েই এলাকায় ছোট ছোট জমায়েতের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু, রোববার সে সবের উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রশাসন। এর মধ্যেই নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো ও ছররা বন্দুক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে, কড়া নিরাপত্তা জারি রেখে মঙ্গলবার কাশ্মীর উপত্যকায় মহরমের মিছিলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশ। শ্রীনগরের রাস্তায় মহরম উপলক্ষে কোনো মিছিল দেখা যায়নি। নিরাপত্তার খাতিরেই কাশ্মীর উপত্যকায় মহরমের মিছিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া শ্রীনগরসহ বেশ কয়েকটি জায়াগায় ফের কার্ফু জারি করা হয়। বিশেষ যেসব এলাকায় শিয়া সংগঠন সক্রিয়, সেইসব জায়গায় বিশেষ নজর রাখা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সাল থেকে কাশ্মীর উপত্যকায় মহরমের মিছিলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি রাখা হয়েছে।

পিডিএসও/হেলাল