মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গ্রাম গুঁড়িয়ে সরকারি স্থাপনা

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:১৭

অনলাইন ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে পুলিশ ব্যারাক ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এমনটাই উঠে এসেছে বিবিসির প্রতিবেদনে।

মিয়ানমার সরকারের ব্যবস্থাপনায় কয়েক দিন আগে বিদেশি সাংবাদিকদের একটি দলকে উত্তর রাখাইনের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিবেদক জোনাথন হেড।

তিনি সেখানে অন্তত চারটি জায়গায় নতুন গড়ে তোলা নিরাপত্তা স্থাপনা দেখেছেন, যেসব জায়গায় একসময় রোহিঙ্গাদের গ্রাম থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় স্যাটেলাইট ইমেজে। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা গ্রামের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি অস্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মিয়ানমার বলে আসছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু গত মাসে প্রত্যাবাসনের দ্বিতীয় দফা চেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে গেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কথায় রোহিঙ্গারা আস্থা রাখতে না পারার কারণে।

রোহিঙ্গাদের দাবি, প্রত্যাবাসনের জন্য আগে তাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। জমি-জমা ও ভিটেমাটির দখল ফেরত দিতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রাখাইনে তাদের সঙ্গে যা হয়েছে, সেজন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

অন্যদিকে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন শুরু করতে না পারার জন্য বাংলাদেশকে দুষছে। তারা যে সত্যিই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত, তা দেখাতেই একদল বিদেশি সাংবাদিককে তারা দাওয়াত দিয়ে রাখাইনে নিয়ে যায় সম্প্রতি।

জোনাথন হেড বিবিসির ওই প্রতিবেদনে লিখেছেন, এমনিতে রাখাইনে বাইরের কারো ঢোকার সুযোগ নেই বললেই চলে। সাংবাদিকদের ওই দলটিকেও সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় সামরিক প্রহরার মধ্যে। পুলিশের অনুমতি না নিয়ে ভিডিও করার বা কারো সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে নির্মূলের প্রমাণ আমরা সেখানে স্পষ্ট দেখেছি।

পিডিএসও/হেলাল