কাশ্মীর ইস্যু

ভারতের পাশে ফ্রান্স, আবার ট্রাম্পের প্রস্তাব

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ১১:৪৮

পার্থ মুখোপাধ্যায়

কাশ্মীর প্রশ্নে বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির অন্যতম ফ্রান্সকে পাশে পেয়েছে ভারত। ত্রিদেশীয় সফরে ফ্রান্সে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠক করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর সঙ্গে। প্রায় ৯০ মিনিটের বেশি সময় ধরে বৈঠকের পরে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট মেক্রো।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কাশ্মীর এবং কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে তাকে বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারত এবং পাকিস্তানকে আলোচনা করে সমাধান বের করতে হবে। এখানে তৃতীয় পক্ষের কোনো জায়গা নেই।

তার মতে, উপত্যকায় ওই অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরিও করাও ঠিক হবে না। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোরর কথায়, কাশ্মীরে শান্তি বজায় রাখা জরুরি। ফ্রান্স চায়, শান্তি এবং আলোচনা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট  কয়েকদিনে মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন জানিয়ে বলেছেন, কাশ্মীর নিয়ে দু’পক্ষ আলোচনায় বসা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। আগামী মাসে ফ্রান্স প্রথম দফায় ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতের হাতে তুলে দেবে।

উল্লেখ্য, বালাকোট অভিযানের পরে ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল পাকিস্তান। সম্প্রতি সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের আকাশসীমা দিয়েই ফ্রান্সে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আবারও কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তান চাইলে তিনি সাহায্যে রাজি আছেন। চলতি সপ্তাহের শেষে জি-সেভেন সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট  ট্রাম্প-প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগে আবারও কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলো আমেরিকা।

এ বিষয়ে প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, খুব কাছ থেকে কাশ্মীরের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আমেরিকা। তার দাবি, আমেরিকা এখনো শান্তি ও সংযমের ডাক দিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কাশ্মীরের উত্তেজনা কমাতে দু’পক্ষ যদি চায় তাহলে তিনি সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মধ্যস্থতা চায়নি ভারত। 

ফ্রান্সের বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উঠবে বলে জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি সেখানে শান্তি আনতে ও উত্তেজনা কমাতে এবং মানবাধিকার রক্ষায় কী পরিকল্পনা করেছেন—তা জানতে চাইতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

পিডিএসও/হেলাল