নাক গলাচ্ছে পাকিস্তান, ট্রাম্পের কাছে মোদির নালিশ

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৯, ১২:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

ভারতের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরোক্ষে এমনই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতবিরোধী হিংসায় প্ররোচনার মধ্যে দাঁড়িয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে শান্তি সম্ভব নয় বলেও জোরের সঙ্গে জানান তিনি। 

রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। প্রায় ৩০ মিনিট দীর্ঘ এই আলোচনায় নানা দ্বিপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক বিষয় উঠে এসেছে। যার সূত্র ধরেই পড়শি দেশের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পরোক্ষে তোপ দেগেছেন নরেন্দ্র মোদি।

জানা গেছে, আলোচনার সময় হিংসা ও সন্ত্রাস মুক্ত পরিবেশ তৈরির উপরে গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রস-বর্ডার সন্ত্রাস বন্ধের পক্ষেও সওয়াল করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেইসঙ্গে দারিদ্র, নিরক্ষরতা এবং রোগব্যাধি মুক্তির লক্ষ্যে বিশ্বের যে কোনো দেশের সঙ্গে ভারত একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত বলে তিনি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ফ্রান্সে যাচ্ছেন মোদি। সেখানে জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির শীর্ষ সম্মেলনে তিনি যোগ দেবেন। ভারত জি-৭-এর অংশীদার রাষ্ট্র। সম্মেলনের পাশাপাশি কয়েকজন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নির্ধারিত থাকলেও সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসার সম্ভাবনা এখনও তৈরি হয়নি।

অন্যদিকে বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন, অঞ্চলের কিছু নেতা উগ্র ভারত-বিরোধী হিংসা এবং ঘৃণা প্রচার করছেন। যা অঞ্চলের শান্তির পক্ষে অনুকূল নয়। সন্ত্রাস ও হিংসামুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করা এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। 

এ ছাড়া পুলওয়ামা হামলার পর পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিতে জঙ্গি অধ্যুষিত বালাকোটকে নিশানা করেছিল ভারত। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতের অন্ধকারে আকাশপথে হামলা চালিয়ে বালাকোটে একাধিক জঙ্গিশিবির গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা। বালাকোটে সেই হামলার পর, সরকারের তরফে সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের যে কোনওরকম আক্রমণ মোকাবিলায় ভারতীয় সেনা তৈরি। প্রয়োজনে শত্রু এলাকায় ঢুকে যুদ্ধ করতেও তৈরি।

সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে,ভারতীয় সেনা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তৈরি হয়েই ছিল। পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকেই লড়াই করত। যুদ্ধের জন্য তার বাহিনী কতটা তৈরি রয়েছে, সে সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করেছিলেন স্বয়ং সেনাপ্রধান। অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন জেনারেল রাওয়ত।

সেখানে তিনি বলেছেন, বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার হামলার পর পাকিস্তান যদি কোনোরকম আগ্রাসী মনোভাব দেখানোর চেষ্টা করত, তা প্রতিহত করা হত। ভারতীয় বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য তৈরি রাখা হয়েছিল।

২০১৬ সালে উরিতে জঙ্গি হামলার পরপরই গোলাবারুদ কিনতে ১১ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করেছে সেনা। ইতিমধ্যে সেই চুক্তির ৯৫ শতাংশ গোলাবারুদ সেনা বাহিনীর হাতে চলে এসেছে। এ ছাড়া অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র কিনতে আরও ৩৩টি চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে।চুক্তির পরিমাণ ৭ হাজার কোটি টাকা, অস্ত্রখাতে ৯ হাজার কোটির আরও একটি চুক্তি পাকা হওয়ার মুখে রয়েছে।

পিডিএসও/তাজ