পাশে রাশিয়া, আদালতে আবদুল্লাহ, ছন্দে ফিরছে কাশ্মীর

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৯, ১৮:২৭ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৯, ১৯:০৩

পার্থ মুখোপাধ্যায়

জম্মু-কাশ্মীর ভাগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওমর আবদুল্লার দল ন্যাশনাল কনফারেন্স কেন্দ্রের সঙ্গে আইনি সঙ্ঘাতের রাস্তায় হাঁটতে চাইছে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং একইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর ভাগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বেআইনি বলে দাবি করে শনিবার শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছে ওমর আবদুল্লার দল ন্যাশনাল কনফারেন্স।

ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রধান জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এখন উপত্যকার অসংখ্য নেতার মতোই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়েও তুমুল গোপনীয়তা বজায় রেখেছে প্রশাসন। দলীয় প্রধানের অনুপস্থিতিতেই ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার পথ বেছে নিয়েছে এনসি বিধায়ক আকবর লোন ও হাসনাইন মাসুদি।

এদিকে, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে এবার ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে পুরনো বন্ধু রাশিয়াও। জানিয়ে দিয়েছে, সংবিধান মেনেই জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের স্টেটাস বদল করেছে ভারত। একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তান দু’দেশকে শান্তি রক্ষার বার্তাও দিয়েছে রাশিয়া। রুশ বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধানসম্মত ভাবেই ভারত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার পরিবর্তন করেছে ও দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করেছে।বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, রাশিয়া আশা করে যে এই সিদ্ধান্তের ফলে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের পরিস্থিতির অবনতি হবে না। রাশিয়া সব সময়েই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সুষ্ঠু সম্পর্কের পক্ষে সওয়াল করে আসছে।

এর মধ্যে খবর, সমঝোতা এক্সপ্রেসের পর লাহোর ও দিল্লির মধ্যে চলাচলকারী দোস্তি বাস পরিষেবা বাতিল করেছে পাকিস্তান, জানিয়েছেন পাকিস্তানের মন্ত্রী মুরাদ সাইদ। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাস চলাচল প্রথম চালু হয় ১৯৯৯ সালে। কিন্তু ২০০১ সালে সংসদ ভবনে হামলার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।২০০৩ সালে ফের বাস চলাচল চালু হয়। সোম, বুধ ও শুক্রবার দিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়াম টার্মিনাল থেকে লাহোরের উদ্দেশে ছাড়ে দোস্তি বাস। লাহোর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ে মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শুক্রবার। এবার তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ।

আর গ্রাউন্ড রিয়ালিটি হলো, ন্যাশনাল কনফারেন্স কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে বিরোধিতার পথে হাঁটলেও উপত্যকা ছন্দে ফিরছে ধীরে ধীরে। শ্রীনগরে কার্ফু অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। সামনে ইদ, উপত্যকার বাসিন্দাদের ধর্মীয় ভাবাবেগ যাতে ক্ষুণ্ন না হয় তা দেখা কেন্দ্রের কাছে চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বস্ত করেছেন,বাইরে থাকা কাশ্মীরিরা যাতে ইদের আগে ঘরে ফিরতে পারেন, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ করবে কেন্দ্র। তার পরে, শুরু হয়েছে ধাপে ধাপে কার্ফু শিথিল করার প্রক্রিয়া।

পিডিএসও/হেলাল