কাশ্মীর-লাদাখে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ৩১ অক্টোবর থেকে

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৯, ১৪:০৬

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

জম্মু ও কাশ্মীরকে দু’ভাগ করার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলে সাক্ষর করেছেন তিনি। এর ফলে রাজ্যে ভেঙে তৈরি হচ্ছে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল-জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ।

আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিনে আত্মপ্রকাশ করবে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। জম্মু ও কাশ্মীরে থাকবে ১০৭ আসনের বিধানসভা। কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরে তা বাড়িয়ে ১১৪ করা হবে। ২৪টি আসন খালি থাকবে কারণ তা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে পড়ছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে কোনও বিধানসভা থাকবে না। অনেকটা হবে চণ্ডীগড়ের মতো। এর আগে সোমবার সংসদে ৩৭০ ধারা বাতিল হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের বিশেষ আইন ৩৫এ-ও বাতিল হয়ে যায়। ৩৭০ ধারা বাতিলের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, আজীবন জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত রাজ্য থাকবে না। লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবেই থাকবে।

অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন নির্দল বিধায়ক শেখ আব্দুল রশিদ ওরফে রশিদ ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। টেরর ফান্ডিং মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মামলায় এই প্রথম কোনও মূলস্রোতের রাজনীতিককে গ্রেফতার করা হলো।

উত্তর কাশ্মীরের ল্যাঙ্গেট বিধানসভা কেন্দ্রে থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন শেখ আব্দুল রশিদ। চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই তাকে কয়েক দফায় জেরা করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরক্টরেট (ইডি)-এর আধিকারিকরা। কিন্তু তার জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। বেশ কিছু অসংগতি ধরা পড়ে। এরপরই এনআইএ শেখ আব্দুল রশিদ ওরফে রশিদ ইঞ্জিনিয়ার গ্রেফতার করেছে।

এনআইএ-র এক সূত্র জানাচ্ছে, জাহুর ওয়াতালি নামে জনৈক এক ব্যবসায়ীকে জেরার সময় রশিদ ইঞ্জিনিয়ারের নাম প্রকাশ্যে আসে। এই জাহুর পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিনেতা হাফিজ সইদের থেকে টাকা নিয়েছিল বলে গোয়েন্দাদের দাবি। যে কারণে এনআইএ আগেই তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে ২০১৭ সালেও একবার জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল কাশ্মীরের প্রাক্তন নির্দল বিধায়ক শেখ আব্দুল রশিদ ওরফে রশিদ ইঞ্জিনিয়ারকে।

এর আগে কাশ্মীর থেকে বিশ্বের নজর ঘোরাতে ভারত যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন ইমরান খান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দাবি, পুলওয়ামার পরেও এমন অবস্থা তৈরি হয়েছিল। এই দাবি উড়িয়ে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেছেন, আতঙ্ক সৃষ্টি করছে পাকিস্তানই। আন্তর্জাতিক মহল কোনো যুদ্ধ-পরিস্থিতি দেখছে না। এ সবই হল ছলচাতুরি করে নজর ঘোরানোর চেষ্টা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়াতেই ভারত তড়িঘড়ি কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে বলে মনে করছেন ইমরান খান।

তিনি বলেছেন, ভারত এমন পরিস্থিতি, ফল্‌স ফ্ল্যাগ অপারেশন, তৈরি করতে পারে, যাতে অন্য পক্ষের উপরে দায় পড়ে।ভারত এখন চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানকে এফএটিএফ-এর কালো তালিকায় তোলার। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমারের পাল্টা  প্রতিক্রিয়া, নতুন বাস্তবকে প্রত্যক্ষ করে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুক পাকিস্তান ।

পিডিএসও/তাজ