আজ পবিত্র হজ

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৯, ১১:৫৩

অনলাইন ডেস্ক

লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের ময়দান। শনিবার পবিত্র হজ পালন করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে আসা হাজিরা। আজ আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন তারা।

শনিবার ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্যোদয়ের পর হাজিরা মিনা থেকে রওনা হন আরাফাতের ময়দানের দিকে। ট্রেনে, বাসে ও হেঁটে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন।

আরাফার ময়দানে এখন হাজিদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে, ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাকা। (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, আপনার কোনো শরীক নেই, সকল প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু আপনারই, সব সাম্রাজ্যও আপনার, আপনার কোনো শরীক নেই)।

দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, রহমত প্রাপ্তি ও নিজেদের গোনাহ মাফের জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে ফরিয়াদ জানাচ্ছেন সমবেত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

আরাফায় আজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন হাজিরা। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই মূলত হজের আনুষ্ঠানিকতা। আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত না থাকলে হজ হবে না। মসজিদে নামীরাকে কেন্দ্র ধরে ১০ কিলোমিটার বৃত্তাকারভাবে আরাফাতের ময়দান।

আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেওয়া হবে। হজের খুতবা শেষে জোহর ও আসরের নামাজ পড়বেন হাজিরা। দিনশেষে সূর্যাস্তের পর আরাফার ময়দান থেকে মুজদালিফায় যাবেন। সেখানে গিয়ে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। একই দিন রাতে হাজিরা মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে সারা রাত অবস্থানের পর শয়তানের স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নেবেন।

রোববার ফজরের নামাজ শেষে বড় জামারায় (প্রতীকী বড় শয়তান) পাথর নিক্ষেপ করতে মিনায় যাবেন তারা। পাথর নিক্ষেপ শেষে পশু কোরবানি দেবেন। মূলত ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজের মূল দিন বলা হয়। এ দিনের নাম ইয়াওমুল আরাফা।

১০ থেকে ১২ জিলহজ তাওয়াফ জিয়ারত করা হজের অন্যতম ফরজ কাজ। কাবা শরিফের তাওয়াফ শুরু করতে হয় হাজরে আসওয়াদ থেকে। ভিড়ের কারণে হাজরে আসওয়াদে স্পর্শ বা চুমু দেওয়া সম্ভব না হলে ইশারায় চুমু দিতে হয়।

হাজিরা মিনায় দুদিন অবস্থান করে হজের অন্য আনুষঙ্গিক কাজ, যেমন: প্রতিদিন জামারায় তিনটি (ছোট, মধ্যম, বড়) শয়তানকে সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। মিনার কাজ শেষে আবার মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর নিজ নিজ দেশে ফিরবেন।

পিডিএসও/তাজ