কলকাতা মেট্রোয় মরণফাঁদ

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৯, ১৮:৪০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

শনিবারের ঘটনার পর মেট্রো আতঙ্কে ভুগছে কলকাতা। মেট্রোর গাইডলাইনে যাত্রী সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হলেও আপতকালীন কোনও ব্যবস্থাই কাজ করে নি তা এখন স্পষ্ট। বছর ৬৬-র নাট্যকর্মী সজল কাঞ্জিলালের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ধোঁয়াশা ছড়িয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে, অভিশপ্ত মেট্রোর দায়িত্বে থাকা চালক ও গার্ডেকে সাসপেন্ড করার পর তাদের বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ। রেকর্ড করা হয়েছে চিফ লোকো ইন্সপেক্টরের বয়ানও। রোববার সকালে একদল নাট্যকর্মী ঘটনার প্রতিবাদে পার্ক স্ট্রিট মেট্রো স্টেশনের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।  

ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মেট্রো রেলের বিরুদ্ধে শেক্সপিয়র সরণী থানায় জোড়া মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪-এ এবং ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সময়ে কারা দায়িত্বে ছিলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই দায়িত্বে থাকা চালক ও গার্ড-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ। মৃতের পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।সজল কাঞ্জিলালের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে আসার পরই জানা যাবে ঠিক কী কারণে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির।

তবে শনিবারের ঘটনায় কিছু মিসিং লিঙ্ক থেকে যাচ্ছে ।পরপর দুর্ঘটনায় মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগে সরব যাত্রী থেকে সব মহলই। দরজায় এক ব্যক্তির হাত আটকে থাকা সত্ত্বেও কেন কাজ করল না সেন্সর? যাত্রীদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও কেনই বা কাজ করেনি টকব্যাক, স্টেশনের জিআরপি-রা কোথায় ছিলেন দুর্ঘটনার সময়ে? মোটরগার্ড কি ফোনে ব্যস্ত ছিলেন? দরজা বন্ধ না হওয়া সত্বেও কী করে চলতে শুরু করল ট্রেন? প্ল্যাটফর্মে সিসি ক্যামেরা থাকা সত্বেও কেন চালককে সতর্ক করা গেল না? অত্যাধুনিক মেট্রোর এই এসি রেকটি চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রেটেড কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি। ২০১৭ সালে মোট পাঁচটি রেক আনা হয়েছিল। যার মধ্যে ট্রায়াল রানে তিনটিতে ত্রুটি ধরা পড়ায় তা ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ত্রæটির মধ্যে প্রধানত ছিল দরজা বন্ধ না হওয়া। এরই মধ্যে তিন মাস আগে ত্রুটিপূর্ণ রেকগুলির ছাড়পত্র দেওয়া হয়। সব নিয়ে পার্কস্ট্রিট মেট্রোয় যাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় তৈরি হয়েছে বেশ রহস্য।মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রানী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, মেট্রো রেলের ওই রেকটি পরীক্ষা করতে চেন্নাই থেকে একটি দলও আসছে।

অন্যদিকে  কলকাতা মেট্রোয় শনিবারের মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলন্ত রেকে হাত আটকে এক যাত্রীর মৃত্যুর পর এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, মর্মান্তিক ঘটনা। মেট্রো এখন সব চেয়ে অবহেলিত। কেন্দ্র একটাও নতুন প্রকল্প করেনি। তিনি যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন তখন মেট্রোর জন্য আলাদা জোন করেছিলেন। তখন নতুন নতুন রেক আনতেন। রেকের খেয়াল রাখতেন। এখন মেট্রোর কোনওরকম রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। তবে মেট্রো রেল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন হলেও মৃতের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

পিডিএসও/রি.মা