বিজেপি রুখতে কংগ্রেস বামকে সঙ্গে চান মমতা

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৯, ২১:৩৬

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

বিজেপিকে রুখতে বাম-কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে একজোট হয়ে লড়তে চান তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় তিনি বলেছেন, সিপিএম, কংগ্রেস দেশকে ধ্বংস করবে, তিনি বিশ্বাস করেন না। বলেছেন, বিজেপি দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করছে। ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়াচ্ছে। এখন ঘটনা হলো, লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের আশাপ্রদ ফল না হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কট্টর বিজেপি বিরোধিতার জায়গা থেকে একচুলও সরেননি। গতকাল বুধবার বিধানসভায় ভাষণ দিতে ওঠে, সব বিরোধিতা ভুলে ‘ফ্যাসিস্ট বিজেপি’র বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যে বাম-কংগ্রেসকেও একযোগে হাত মেলাতে আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী।

বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ২৩টি রাজনৈতিক দল বিজেপির বিরুদ্ধে যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, সেটা চালিয়ে যেতে হবে। জয়েন্টলি আসা দরকার। বস্তুত রাজ্যে বামেদের ভোটব্যাংক কেড়ে নিয়েই যে বিজেপির চমকপ্রদ উত্থান, তা লোকসভা নির্বাচনে স্পষ্ট। তাই বাম দলগুলো, সেইসঙ্গে কংগ্রেসকেও মমতা ডাক দিয়েছেন একযোগে। বিধানসভাতে দাঁড়িয়েও ইভিএম কারচুপির অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

একই সঙ্গে বহুদিন পর মমতা স্বীকার করে নিয়েছেন তার রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা। বলেছেন, চেষ্টা করেও তিনি তার দলের সব ভোট অন্যদিকে শিফট করাতে পারবেন না। তৃণমূল সাধারণ মানুষের দল বলেই সহজে চোর-ডাকাত বলে গালাগালি দেওয়া যায়। কিন্তু বিজেপি পুঁজিবাদী জমিদারদের দল। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তার দলেও কিছু লোক খারাপ আছে কিন্তু সেটাও শুধরে নিতে হবে। দলত্যাগীদের প্রসঙ্গে বলেছেন, নির্বাচনের আগেই অনেকের রফা হয়ে গিয়েছিল। তারাই গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপি ছাড়া বাংলার অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো সৎ। বিজেপির উদ্দেশে বলেছেন, কয়েকটা সিট পেয়ে ভাববেন না কেউ পালাবে, বিজেপিকে উৎখাত করবই। দল ভাঙিয়ে বিজেপির পুরসভা দখলের রেওয়াজকে বুধবার বিধানসভায় কটাক্ষ করেছেন বামদের নেতা সুজন চক্রবর্তী। 

পশ্চিমবঙ্গে ভিত শক্ত করছে জঙ্গিরা : অসম, পশ্চিমবঙ্গে এবং ত্রিপুরাতে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক যে ধর্মীয় মেরুকরণ হয়েছে, সেটাকে হাতিয়ার করে প্রত্যন্ত গ্রামে নিজেদের ভিত শক্ত করছে জেএমবি। কলকাতায় ধৃত নব্য জেএমবির চার সদস্য এবং বেঙ্গালুরুতে ধৃত খাগড়াগড় কান্ডের অন্যতম ওয়ান্টেড হাবিবুর রহমান শেখকে জেরা করে ওঠে এসেছে পূর্ব ভারতে জঙ্গি সংগঠনের জমি শক্ত করার একাধিক তথ্য। আন্তর্জাতিক যোগ রয়েছে এবং তারা জিহাদের নামে পশ্চিম এশিয়া থেকে বিপুল আর্থিক সাহায্য পাচ্ছে- এমন কথাও বলছেন গোয়েন্দারা। 

এসটিএফের গোয়েন্দারা বলেছেন, নব্য জেএমবি ভারতের মাটিকে কাজে লাগাচ্ছে মূলত ক্যাডার নিয়োগ এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও আশ্রয়ের জন্য। কারণ তাদের অপারেশনের মূল এলাকা এখনো বাংলাদেশ। অন্যদিকে আদি জেএমবি  পশ্চিমবঙ্গকেই, সদর দফতর হিসেবে ব্যবহার করছে ভারতে অপারেশন করার লক্ষ্যে। সেই লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসটিএফের গোয়েন্দাদের দাবি, সালাউদ্দিন সালেহিন এ দেশেই রয়েছে। অন্যদিকে সোহেল মেহফুজ বাংলাদেশে গ্রেফতার হওয়ার পর, চট্টগ্রামের ডন নিযুক্ত হয়েছে নতুন আমির হিসেবে। সোহেল মেহফুজ বাংলাদেশে থাকলেও, নব্য জেএমবির শূরার অধিকাংশ নেতাই পশ্চিমবঙ্গে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ সূত্রে খবর, খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর বেঙ্গালুরুর কাছে কেআর পুরমে গা-ঢাকা দেয় হাবিবুর। সেখানে বাংলাভাষী শ্র্র্রমিকদের মধ্যে মিশে যায় সে। কর্নাটকের রাইচুড় জেলার এক মহিলাকে বিয়ে করে ডোদাবলপুরে ঘাঁটি তৈরি করে হাবিবুর। কওসর ও বড়ভাইয়ের সঙ্গেই সে হয়ে ওঠে জামা’আতুল ইসলাম হিন্দ বা ভারত শাখার অন্যতম প্রধান সংগঠক। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, দুই জেএমবির অন্তত ৩০০ সক্রিয় সদস্য রয়েছে পূর্ব ভারতের তিন রাজ্যে। সামরিক প্রশিক্ষণের সঙ্গে ধীরে ধীরে ইসলামিক জঙ্গি কার্যকলাপের মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।

বলা হচ্ছে, জেএমবির প্রথম সারির প্রায় সব নেতাই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় গা-ঢাকা দিয়ে বাংলাদেশে তাদের সাংগঠনিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। 

খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় মোস্ট ওয়ান্টেড নব্য জেএমবির সোহেল মেহফুজ ওরফে হাতকাটা নাসিরুল্লা যে বাংলাদেশে হামলার পেছনে থাকা মূল মাথা তা তখনো ভারতীয় গোয়েন্দাদের জানা ছিল না। কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্কফোর্স বা এসটিএফের বক্তব্য, ফেরার জেএমবি নেতাদের খোঁজ করতে গিয়েই মুর্শিদাবাদে হদিস মেলে একটি নতুন মডিউলের। যারা বুদ্ধগয়াতে হামলার ছক কষেছিল দলাই লামার সফরের সময়ে। মডিউলটি প্রকাশ্যে আসতেই জানা যায়, বাংলাদেশে কোণঠাসা হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঘাঁটি গেড়েই বুদ্ধগয়াতে হামলার ছক করেছিল খাগড়াগড় বিস্ফোরণের আর এক মোস্ট ওয়ান্টেড জহিদুল শেখ ওরফে কওসর। তার পেছনে মূল মাথা ছিল সালাউদ্দিন সালেহিন বা বড় ভাই।

পিডিএসও/রি.মা