শ্রীলঙ্কায় ৪৩ বছর পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৯, ১৯:২৬

অনলাইন ডেস্ক

মাদকের বিস্তার ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রাখা মাদক অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার।

বুধবার মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চার আসামির দন্ড কার্যকর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। এই সিদ্ধান্তের ফলে গত ১৬ বছরে মাদক আইনের মামলায় আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় পাওয়া আসামিদের সবার সাজা কার্যকর করা হতে পারে।

রাজধানী কলম্বোয় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা বলেন, এরই মধ্যে চারজনের (অভিযুক্ত) মৃত্যুদণ্ডের অনুমতি দিয়েছি। শিগগিরই এটি কার্যকর হবে এবং এরই মধ্যে তারিখও নির্ধারণ করে ফেলেছি আমরা। তবে কত তারিখে ওই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে এবং অভিযুক্তদের নাম, এসব বিস্তারিত জানাননি তিনি।

শেষবার ৪৩ বছর আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল শ্রীলঙ্কা। কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ছাড়াই শেষ জল্লাদ ২০১৪ সালে চাকরি ছেড়ে দেন। চাকরি ছাড়ার কারণ হিসেবে ফাঁসির মঞ্চ দেখার পর থেকে তিনি মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন। তবে গত বছর আরেকজনকে জল্লাদ হিসেবে রাখা হয়েছে, কিন্তু তাকে কখনো কাজে লাগানো হয়নি।

প্রসঙ্গত, বৌদ্ধপ্রধান দেশ শ্রীলঙ্কার আইনে হত্যা, ধর্ষণ, আর মাদক চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদন্ডের বিধান থাকলেও ১৯৭৬ সালের পর দেশটির কোনো সরকারই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেনি। শ্রীলঙ্কার আদালত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় সাজা হিসেবে মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়ে এলেও সরকার তা কার্যকর না করায় সেই আসামিদের কার্যত যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করতে হচ্ছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাদক চোরাচালান বেড়ে যাওয়ায় এবং এরই জেরে বেশ কয়েকটি হত্যাকান্ড ঘটায় সরকারকে চাপের মধ্যে পড়তে হয়। এর মধ্যে খবর আসে, মাদক আইনে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত কয়েকজন আসামি কারাগারে বসেই শ্রীলঙ্কায় মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন। এরপর মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দাবি আরো জোরালো হয়ে ওঠে।

পিডিএসও/তাজ