চৌকিদার চোর বলায় রাহুলের দুঃখপ্রকাশ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শক্তিমত্তা প্রদর্শন

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০:১৪

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

পশ্চিমবঙ্গকে এবার ভালোই টার্গেট করেছে বিজেপি। একের পর এক দলীয় শীর্ষ নেতারা নানা ইস্যুতে সেখানে একযোগে তৃণমূল, কংগ্রেস ও বামদের বিরুদ্ধে বলে যাচ্ছেন।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে মুর্শিদাবাদ বাংলাদেশে চলে যেত— এমন মন্তব্যও করেছেন বিজেপির নেতারা। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দাবি, বাংলার অখণ্ডতা রক্ষা করার কৃতিত্ব একমাত্র শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ওই নেতার জন্যই মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের অংশ হতে পেরেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

সোমবার পশ্চিমবঙ্গে ঝটিকা নির্বাচনী সফরে এসে প্রচারে একযোগে তৃণমূল, কংগ্রেস ও বামেদের আক্রমণ করেছেন যোগী আদিত্যনাথ। তার অভিযোগ, এ রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় থেকেছে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বামেরা ও তৃণমূল একই কাজ করেছে। ফলে বাংলা ক্রমশ বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের দিকে এগিয়েছে। বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রকৃত নেতৃত্বের অভাব ছিল বলেই তার দাবি। যোগী আদিত্যনাথ সোমবার বাংলায় ম্যারাথন প্রচারে করেছেন।

শুরুতেই তিনি জনসভা করেছেন উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়। ওই সভা থেকেই তিনি সোজা চলে যান বহরমপুরে। বনগাঁর সভায় তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন। তৃণমূল বাংলার উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। আবার বহরমপুরে অনুপ্রবেশ নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দার জন্য বাংলায় অনুপ্রবেশ রুখতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। গরিবদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। তার দাবি, বিজেপিবিরোধী সরকার যে রাজ্যে থাকে সেখানেই ধর্মাচরণ নিয়ে বিভেদমূলক আচরণ দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গেও সেই ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে।

এ রাজ্যে দুর্গাপূজায় শাঁখ, ঘণ্টা বাজাতে সরকার বাধা দেয় বলে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অভিযোগ করেন। তার বক্তব্য উত্তরপ্রদেশেও এমন অবস্থা ছিল। কিন্তু দুই বছর ধরে উত্তরপ্রদেশের অবস্থা বদলেছে। ধর্মাচরণে কারো কোনো সমস্যা হয় না। পশ্চিমবঙ্গে পা রাখার আগেই অবশ্য সোমবার সকালে দুটি টুইট করে যোগী আক্রমণ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রসকে। টুইটারে লিখেছিলেন, এবার হিংসা ও দুর্নীতির রাজনীতিকে ছুঁড়ে ফেলুন। আর নরেন্দ্র মোদিকে ভোট দিন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী। সুপ্রিম কোর্টে কংগ্রেস সভাপতি তার জবাবে জানিয়েছেন, নির্বাচনী সভা করার সময়ে উত্তেজনার বশে ওই মন্তব্য করেছিলাম। বিরোধীরা তার ওই মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করেছে। রাহুল গান্ধী কখনোই এ কথা বলতে চাননি যে সুপ্রিম কোর্টে বলেছে, চৌকিদার চোর। গোটা বিষয়টির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছিলেন বিজেপি নেত্রী মীনাক্ষী লেখি।

তিনি হাতিয়ার করেন রাহুলের একটি মন্তব্যকে। লেখি দাবি করেন, রাহুল বলেছেন সুপ্রিম কোর্টও মেনে নিয়েছে চৌকিদার চোর হ্যায়। ওই মামলার পরিপ্রক্ষিতে রাহুল গান্ধীকে বিষয়টি নিয়ে জবাব দিতে বলে সুপ্রিম কোর্ট। প্রসঙ্গত, রাফাল চুক্তি নিয়ে বরাবরই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বিঁধে আসছেন রাহুল। রাফাল নথি প্রকাশ্যে আসার পর পর মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। এ নিয়ে রাহুল মন্তব্য করেন এত দিনে সুপ্রিম কোর্টও মেনে নিয়েছে চৌকিদার চোর হ্যায়। বহু দিন ধরে এ কথা আমি বলে আসছিলাম। রাহুলের ওই মন্তব্যের পরই আদালত অবমানার মামলা করেন বিজেপি নেত্রী মীনাক্ষী লেখি। এ নিয়ে রাহুলের কাছ থেকে লিখিত জবাব তলব করে শীর্ষ আদালত। সোমবার তারই জবাব দিয়েছেন রাহুল।

অন্যদিকে, রাজ্যে মাফিয়া রাজ চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় জনসভা থেকে এভাবেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলকে আক্রমণ করে কেন্দ্রীয় শাসক দলের সর্বভারতীয় সভাপতির তোপ, গরু পাচারে সবার ওপরে এ রাজ্য। অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গে পরিণত হয়েছে বাংলা (পশ্চিমবঙ্গ)। রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ২৩টি আসনে বিজেপিকে জেতানোর আর্জি জানিয়ে শাহ দাবি করেছেন, ৯০ দিনের মধ্যে বাংলার সিন্ডিকেট রাজ খতম করে দেখাবেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শাহ বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যকে দেউলিয়া করে দিয়েছেন। তবে ওনার আত্মীয় ও মন্ত্রীরাই ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এন আর সি নিয়েও রাজ্যের মানুষকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুল বোঝানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অমিত শাহ।

লোকসভা নির্বাচনে জিতলে সব রাজ্যেই ‘এন আর সি’ চালুর কথা বলেছেন অমিত শাহ। বলেছেন, প্রথমে আমরা নাগরিক বিল (সংশোধনী) আনব, যাতে শরণার্থীরা নাগরিকত্ব পান। অনুপ্রবেশকারীদের দেশ-ছাড়া করাতে সব রাজ্যেই এন আর সি চালু করতে বদ্ধপরিকর বিজেপি।

পিডিএসও/তাজ