পালানো সৌদি তরুণীকে অভ্যর্থনা দিয়ে গ্রহণ কানাডার

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:১৭

অনলাইন ডেস্ক

অবশেষে পরিবার ছেড়ে পালানো সৌদি তরুণী রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনুনকে সাদরে গ্রহণ করেছে কানাডা। কানাডা তাকে আশ্রয় দিতে রাজিত হওয়ার পর শনিবার কানাডার টরেন্টোতে পৌঁছান এ তরুণী। সেখানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড তাকে সাদরে গ্রহণ করেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ার পর কুনুন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবির জন্য পোজ দেন। তবে এ সময় কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন, 'কুনুন চেয়েছিল যে কানাডিয়ানরা দেখুক সে এখানে এসেছে, সে ভালো আছে এবং এখানে তার নতুন বাড়িতে সে অনেক অনেক সুখী।'

প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি কুনুন পরিবারের সঙ্গে কুয়েত যাওয়ার পথে ব্যাংককে পালিয়ে আসেন। ব্যাংকক বিমানবন্দরে আটক হওয়ার পর তিনি দাবি করেন, তার কাছে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা রয়েছে এবং তিনি এখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে কানেকটিং ফ্লাইট ধরবেন। কিন্তু সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে তার পাসপোর্ট একজন সৌদি কূটনীতিক কেড়ে নিয়েছেন।
পরে কুনুন ব্যাংককের একটি হোটেল কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ রেখে আলোচনায় আসেন।

থাই কর্তৃপক্ষ যাতে তাকে তার পরিবারের কাছে ফেরত পাঠাতে না পারে সে জন্য তিনি হোটেল কক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন দাবি করে।

ওই সময় এ তরুণী জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করায় তার জীবন হুমকির মুখে। তার পরিবার তুচ্ছ অপারাধেও তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এছাড়া সৌদি আরবে ধর্মত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এসব কারণে তিনি পরিবারের কাছে ফিরতে চান না।

তিনি আরো জানান, ব্যাংকক থেকে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে থাই কর্তৃপক্ষ তাকে কুয়েতে অবস্থানরত তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুনুনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাকে 'বৈধ শরণার্থী' হিসেবে আশ্রয় দিতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। পরে কানাডা কুনুনকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়।

পিডিএসও/তাজ