বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে ২১ আগস্ট মামলার রায়

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ২০:০১

অনলাইন ডেস্ক

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই রায় বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।

আল জাজিরা : কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা রায়ের পরই সংবাদ প্রকাশ করেছে। আল জাজিরার শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘২০০৪ সালে হামলার অভিযোগে বাংলাদেশ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।’

এ ছাড়া তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। আল জাজিরায় বলা হয়েছে, ‘ঢাকার আদালত বিরোধীদলীয় প্রধান নেতা তারেক রহমানকে ২০০৪ সালের সমাবেশে হামলার কারণে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।’

রয়টার্স : যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স তারেক রহমানের যাবজ্জীবনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। রয়টার্সের শিরোনামে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালের বিস্ফোরণের মামলায় বাংলাদেশের বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত।

বিবিসি : যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিও গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে রায়ের সংবাদটি। তাদের শিরোনামে বলা হয়েছে ২০০৪ সালে হামলার মামলায় বাংলাদেশ ১৯ জনের ফাঁসি দিয়েছে। বিবিসির প্রকাশিত সংবাদে তারেক রহমানের সাজার বিষয়টির ওপরই মূলত গুরুত্ব দিয়েছে।

চ্যানেল নিউজ এশিয়া : সিঙ্গাপুরভিত্তিক টিভি চ্যানেল নিউজ এশিয়া প্রকাশ করেছে মামলার রায়টি। ‘২০০৪ সালে হামলার মামলায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশ’— এমন শিরোনামে তারা সংবাদ প্রকাশ করে।

এবিসি নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের শিরোনামে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে একটি সমাবেশে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর হামলার অভিযোগে বাংলাদেশি ট্রাইব্যুনাল ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এবিসির সংবাদে মৃত্যুদণ্ডের কথাই উল্লেখ আছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যাবজ্জীবনের বিষয়টি তারা সামনে নিয়ে আসেনি।

সিনহুয়া : চীনের রাষ্ট্রী বার্তা সংস্থা সিনহুয়ায় উঠে এসেছে মামলায় রায়। সিনহুয়া বলেছে, ২০০৪ সালে গ্রেনেড বিস্ফোরণের মামলায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। ভেতরে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না থাকলেও দুজন মন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে।

দা গালফ টুডে: সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম দা গলফ টুডে তে শিরোনাম করা হয় ‘২০০৪ এর হামলায় বাংলাদেশে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড’। খবরে বলা হয়, আজ বুধবার বাংলাদেশের একটি আদালত বতর্মান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বিরোধী দলের শীর্ষ পলাতক নেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 
দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান (৫০) দেশ ছেড়ে লন্ডনে পলাতক আছেন। দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়া ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কারাবন্দি হলে তারেক জিয়া বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এপি: বার্তা সংস্থা এপির খবরে শিরোনাম ছিল ‘রাজনৈতিক সমাবেশে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড’। খবরে বলা হয়, শেখ হাসিনা অল্পের জন্য ওই সময় প্রাণে বেঁচে যান। এপির খবরে রায়ের খবরের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রতিক্রিয়া ও রায়ের সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, রায় দেওয়ার সময় দুই বার বিদ্যুৎ সংযোগ চলে যাওয়ায় বিচারককে বাধা পেতে হয়। রায়কে কেন্দ্র করে আদালতের বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। 
রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে বলা হয়, সাংবাদিকদের কাছে তিনি নিজেকে নিদোর্ষ দাবি করে বলেন, ‘আল্লাহ সবকিছু জানেন। আমি এর সঙ্গে জড়িত ছিলাম না’।

আনন্দবাজার: ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘হাসিনার ওপর হামলা: মৃত্যুদণ্ড ১৯, খালেদা-পুত্র সহ যাবজ্জীবন ১৭ জনের’। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে খুনের চেষ্টার দায়ে তৎকালীন খালেদা জিয়া সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু-সহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে খালেদা জিয়ার দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদা-পুত্র তারেক রহমানসহ ১৭ জনের।

এই হামলার তদন্তে শুরু থেকে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালানো হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুন করে তদন্ত শুরু করে। বেরিয়ে আসে অনেক অজানা তথ্য। ২০০৮ সালের জুনে বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই তাজউদ্দিন, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) নেতা মুফতি হান্নান-সহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে সিআইডি। তদন্তে বেরিয়ে আসে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল। হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড এসেছিল পাকিস্তান থেকে।

হিন্দুস্থান টাইমস: আরেক ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের শিরোনাম হয়েছে, ২০০৪ শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলেকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে ১৯ জনকে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পলাতক ছেলে তারেক রহমানকে ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানকে (৫০) বিচারক পলাতক হিসেবে রায় ঘোষণা করেছেন। তিনি এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন। ধারণা করা হচ্ছে সেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। যদিও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তার অভিবাসন অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে।

এনডিটিভি : ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিও গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে সংবাদটি। তবে তারা তারেক রহমানের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। তারা বলেছে, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলেকে ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার কারণে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।’ 

পিডিএসও/রিহাব