মিয়ানমার স্বাধীন সাংবাদিকতাকে রুদ্ধ করতে চায় : জাতিসংঘ

প্রকাশ | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:০১ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:০১

অনলাইন ডেস্ক

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকার রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে রুদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। রয়টার্স সাংবাদিকদের কারাদণ্ডসহ পাঁচটি মামলা পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক রিপোর্টে এই মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের সংস্থাটি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্পষ্ট ও বিপুল বিস্তৃত আইনে অনেককে গ্রেফতার ও বিচার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকার এই লক্ষ্য পূরণ করতে চায়।

‘অদৃশ্য সীমানা : মিয়ানমারে সাংবাদিকতার অপরাধের বিচার’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে সু চির সরকারের আমলের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে। ২০১৫ সালে সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) ক্ষমতায় আসার পর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভয় ও আনুকূল্য ছাড়া মিয়ানমারে সাংবাদিকতা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে’।

রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার তথ্য সংগ্রহের সময়ে গ্রেফতার করা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ও’কে গত সপ্তাহে কারাদণ্ড দেয় মিয়ানমারর একটি আদালত। ওই মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা পর্যালোচনা করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে ‘আংশিক ভয়ানক ও মিয়ানমারে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিচারিক হয়রানির হাই প্রোফাইল উদাহরণ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে কিভাবে তাদের গ্রেফতার ও বিচারকাজ চালানো হয়েছে তারও বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

মিয়ানমার বলছে, উপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইনে রয়টার্সের সাংবাদিকদের কারাদণ্ড দেওয়া আদালত ছিল স্বাধীন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ওই সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি করলেও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে বলেও দাবি মিয়ানমারের।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের নতুন প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিয়ান্ট কিয়াও। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকারের সময়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ইয়াঙ্গুনের কর্মকর্তারা। স্বাধীন সাংবাদিকতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডারের হিসাবে গত এক বছরে মিয়ানমারের প্রায় ২০ জন সাংবাদিকের বিচার করা হয়েছে বলেও জানান শামদাসানি।

পিডিএসও/হেলাল