বিমান ছিনতাইকারীর মেয়ের সঙ্গে লাদেনপুত্রের বিয়ে

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৫২

অনলাইন ডেস্ক

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহার করা বিমানের শীর্ষ ছিনতাইকারী মোহাম্মদ আত্তার মেয়েকে বিয়ে করেছেন সাবেক আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের ছেলে হামজা বিন লাদেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওসামার সৎভাইরা।

আহমাদ ও হাসান আল আত্তাস বলেছেন, তাদের ধারণা হামজাকে আল কায়দা শীর্ষ পদ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে নিহত পিতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞাও করেছেন তিনি।

ওসামা বিন লাদেনের জীবিত তিন স্ত্রীর মধ্যে খাইরিয়া সাবারের পুত্র হামজা বিন লাদেন। অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানে ওসামা নিহত হওয়ার সময়ে তার সঙ্গেই ছিলেন খাইরিয়া। ওই অভিযানের পর থেকেই হামজা প্রকাশ্যে ওয়াশিংটন, লন্ডন, প্যারিস, তেল আবিবে যুদ্ধ শুরু করা জন্য অনুসারীদের আহ্বান জানিয়ে আসছেন তিনি। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটির বর্তমান নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি শীর্ষ সহকারী হিসেবেও দেখা হয় তাকে।

আহমাদ আল আত্তা বলেন, আমরা শুনেছি সে মোহাম্মদ আত্তার মেয়েকে বিয়ে করেছে। সে কোথায় আছে তা নিশ্চিত নই তবে আফগানিস্তানে হতে পারে।

পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গত দুই বছর ধরে হামজা বিন লাদেন কোথায় আছে তা জানার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের ধারণা, অন্য যেকারো চেয়ে হামজাই অনুসারীদের সবচেয়ে বেশি উদ্দীপ্ত করতে পারে। মিসরীয় নাগরিক আত্তার মেয়েকে তার বিয়ে করা নিশ্চিত করে ৯/১১ হামলার চক্রটি এখনো আল কায়দার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে। আর ওসামা বিন লাদেনের উত্তরাধিকারকে কেন্দ্র করেই গোষ্ঠীটি সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ওসামা বিন লাদেনের আরেক ছেলে খালিদ অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানে নিহত হন। এছাড়া আরেক ছেলে সাদ ২০০৯ সালে আফগানিস্তানে ড্রোন হামলায় নিহত হন। অ্যাবোটাবাদের বাড়ি থেকে পাওয়া ওসামার লেখা চিঠিতে দেখা গেছে, নিজের স্থলাভিষিক্ত করতে হামজাকে তৈরি করছেন তিনি। সাদের নিহত হওয়ার পর তিনি এই কাজে মনোনিবেশ করেছিলেন বলে মনে করা হয়।

সাবেক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ প্রত্যাখ্যান করলেও ওসামার স্ত্রী ও বেঁচে থাকা ছেলেমেয়েরা সৌদি আরবে ফিরে এসেছেন। তারা বিন লাদেনের মা আলিয়া ঘানেমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখেন। দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আলিয়া ঘানেম জানিয়েছেন, পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্যদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।

পিডিএসও/তাজ