আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৮, ১৮:১২ | আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৪৮

অনলাইন ডেস্ক

নিরাপদ সড়কের দাবিতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ৫ম দিনের আন্দোলন নিয়েও গুরুত্বের সঙ্গে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি, কাতারভিত্তিক আল-জাজিরা, কূটনীতি বিষয়ক সাময়িকী ডিপ্লোম্যাট, এশিয়াভিত্তিক এশিয়ান এজ, ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে এদিনের ছাত্র আন্দোলনের বাস্তবতা।  

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবিতে গত পাঁচ দিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে আসছে।

ব্রিটিশ সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন বিক্ষোভের ৫ম দিন ২ আগস্ট বৃহস্পতিবার ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকা অচল করে দিয়েছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা’ শিরোনামে প্রতিবেদন লিখেছে। খবরে ঢাকার রাস্তার বিপন্নতার কথা বলতে গিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন  গণপরিবহনের মধ্যে যাত্রী উঠানো নিয়ে প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। একটি পরিসংখ্যানকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশে ৪২০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, সরকার দাবি দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। ইমরান আহমেদ নামের একজন শিক্ষার্থী টাইমকে বলেছে, ‘সরকারের উচিত আমাদের দাবিদাওয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা, তবে তারা তা করছে না’। টাইম-এর খবর অনুযায়ী, নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা পাওয়ার আগ পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহনের কাগজজপত্র পরীক্ষা অব্যাহত থাকার কথাও জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।  

ফরাসি বার্তা সংস্থার খবরেও উঠে এসেছে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার বিপন্নতার কথা। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পরিবহন খাতকে দুর্নীতিগ্রস্ত, নিয়ন্ত্রণহীন এবং ভয়াবহ হিসেবে দেখা হয়। সে কারণেই দুই কিশোর শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা।

এশিয়ান এজের খবরে উঠে এসেছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিপরীতে রাস্তা থেকে পরিবহন মালিকদের বাস তুলে নেওয়ার খবর। এতে যাত্রীরা ভয়াবহ বাস্তবতার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এদিকে ‘উত্তাল বিক্ষোভের মুখে সড়ক দুর্ঘটনায় কঠোর আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার’ শিরোনামে খবর লিখেছে এশিয়ার ক্যাথলিক নিউজ বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইউসিএ.কম। ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার খবরে ৫ম দিনের আন্দোলন সম্পর্কে বলা হয়েছে, সরকার শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কাজে আসেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা এদিন পথে নেমেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের ৫ম দিনেও উচ্চ বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাদের দুই সহপাঠীর মৃত্যুর প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চেভেলের খবরেও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে ৫ম দিনের বিক্ষোভের কথা। এ নিয়ে ফটো ফিচার প্রকাশ করেছে তারা। আলোকচিত্র সরবরাহকারী জার্মান বার্তা সংস্থা গ্যেটে ইমেজ আন্দোলনের বেশকিছু ছবি প্রকাশ করেছে তাদের সাইটে। এর বাইরের আলজাজিরা, ডিপ্লোম্যাটসহ অপরাপর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম নিহত হয়। ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়।এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

বুধবার বিকালে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে  বৈঠক করে  শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটির মধ্যেও গতকাল রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা।

পিডিএসও/রিহাব