পাকিস্তানে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৮, ২০:২১

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার সকাল আটটা থেকে পাকিস্তানের ১১তম সাধারণ নির্বাচন ও চারটি প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তা চলে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৭২ আসনবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদের জন্য ৩,৪৫৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে এনএ-৬০ ও এনএ-১০৮ আসনে নির্বাচন স্থগিত করে কমিশন। পাকিস্তানে এবার নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৬০ লাখ। নির্বাচনে শীর্ষ তিনটি প্রতিদ্বন্দ্বী দল হলো-পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। আর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে ৮,২৪৫ জন প্রার্থী।

ভোট গণনা প্রক্রিয়া

ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও তার সহকারীরা ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে ভোট গণনা করছেন। গণনা শেষে কর্মকর্তারা ব্যালটগুলো নির্বাচন কমিশনের ব্যাগে ভরে সিলগালা করবেন। এরপর সে ব্যাগগুলো রিটার্নিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আবার সেগুলো ডিস্ট্রিক্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করবেন। এরপর ডিস্ট্রিক্ট রিটার্নিং অফিসার তা পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনে জমা দেবেন। জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের ব্যাগগুলো সবুজ রংয়ের, প্রাদেশি পরিষদ নির্বাচনের ব্যাগগুলো সাদা রংয়ের এবং শনাক্ত না করতে পারা ভোটগুলো নীল রংয়ের ব্যাগে থাকবে। জাতীয় পরিষদের জন্য ফর্ম ৪৫ ও প্রাদেশি পরিষদের জন্য নির্ধারিত ফর্ম ৪৬ পূরণ করবেন প্রত্যেক প্রিসাইডিং অফিসার। এ ফর্মগুলোতে প্রত্যেক নামের পাশাপাশি তারা কত ভোট পেলেন তা লেখা থাকবে। স্টেশনে উপস্থিত থাকা পোলিং এজেন্ট ও প্রার্থীদের ওই ফলাফল জানানো যাবে। দুইটি ফর্মের স্ক্রিন শট নিয়ে তা রেজাল্টস ট্রান্সমিশন সিস্টেম নামের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনে আপলোড করবেন প্রিসাইডিং অফিসাররা। এর মধ্য দিয়ে যথাযথ সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে ফলাফল পাঠাতে পারবেন নির্বাচনি কমকর্তারা। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে কোনও প্রার্থী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট পরিস্থিতি তৈরি হবে। তখন জোট সরকারের পথে হাঁটতে হবে দলগুলোকে।

নির্বাচনে সহিংসতা

পাকিস্তানে এবার প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মোতায়েন করা হয় রেকর্ড সংখ্যক সেনা। ডনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর ৩ লাখ ৭১ হাজারের বেশি সেনা সদস্য এবং পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর আরও সাড়ে ৪ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়।  দেশজুড়ে ১৭ হাজার ভোটকেন্দ্রকে ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর’ ঘোষণা করা হয়। তবে এতো কঠোর নিরাপত্তা সত্ত্বেও ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মাথায় বেশ কয়েকটি জায়গার সহিংসতার ও ৩৪ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে। স্থানীয় পুলিশকে উদ্ধৃত করে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাওয়ানকালি এলাকায় এন-১৯ (সোয়াবি ২) ও পিকে-৪৭ (সোয়াবি ৫) আসনে সহিংসতা হয়েছে। সেখানে ভোটকেন্দ্রের বাইরে পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হয় পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের এক কর্মী। লারকানায় একটি ক্যাম্পের বাইরে পটকা বিস্ফোরিত হয়েছে। ওই ঘটনায় চারজন আহত হয়। তবে কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

কোয়েটায় ইস্টার্ন বাইপাস এলাকায় একটি ভোটকেন্দ্রের কাছে বোমা বিস্ফোরণে ৩১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ২০ জন। এর মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর। পুলিশকে উদ্ধৃত করে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়,বুধবার (২৫ জুলাই) কোয়েটার ‘স্পর্শকাতর’ নির্বাচনি আসন হিসেবে বিবেচিত এনএ-২৬০-এর একটি স্কুলের কাছে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই স্কুলটিতে তখন ভোটগ্রহণ চলছিলো। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। স্কুলটিতে ভোটগ্রহণ সাময়িক স্থগিত রাখা হয়। পরে আবারও শুরু হয় ভোটগ্রহণ। এরইমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে উদ্ধৃত করে ডন জানায়, বেলুচিস্তানের খুজদার এলাকার কোশক গ্রামের একটি ভোটকেন্দ্রে গ্রেনেড হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত ও তিনজন আহত হয়। নাসিরাবাদে একটি পুলিশ স্টেশনে গোলাগুলিতে দুইজন আহত হয়েছে। এছাড়া মারদান, রাজনপুর, খিপরো ও কোহিস্তানেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। দিঘরি এলাকার মিরপুরখাস ভোটকেন্দ্রের বাইরে গোলাগুলির ঘটনায় সিকান্দার নুহানি নামের একজন নিহত হয়েছে। 

নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা। তবে এ সময় পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের কাছে আলাদা করে সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিল পিএমএল-এন, পিটিআই, পিপিপি, এএনপি ও আওয়ামী মুসলিম লিগ। পিএমএলএন-এর লিখিত আবেদনে বলা হয়: ‘একদিকে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, অন্যদিকে একইসঙ্গে মাত্র তিন-চারজনকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে গরম ও আদ্র আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের কেবল কষ্ট হচ্ছে তা নয়; প্রায় সবগুলো ভোটকেন্দ্রে ক্লান্তিকর, ধীর ও অসুবিধাজনক ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার কারণে অনেকে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ তবে সে আবেদন প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সময়েই শেষ হয় ভোটগ্রহণ। জানানো হয়, সময় শেষ হওয়ার পরও ভোটকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে যারা লাইনে অবস্থান করবেন তারা ভোট দিতে পারবেন।

পিডিএসও/রিহাব