জামিন পেতে হাইকোর্টে যাচ্ছেন নওয়াজ-মরিয়ম

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০১৮, ১৫:৫৩

অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তার মেয়ে মরিয়মকে দেওয়া অ্যাকাউন্টিবিলি কোর্টের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করতে এরইমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আইনজীবীরা। শনিবার সশরীরে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে হাজির হয়ে ঘোষিত সাজাকে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করার কথা রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার কন্যার। নওয়াজের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ নেতাদের উদ্ধৃত করে সে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হাইকোর্টে হাজির হলেই নওয়াজ-মরিয়মের জামিন হয়ে যাবে বলে দলের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে।

লন্ডনে কেনা বিলাসবহুল চারটি ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধে দেওয়া অর্থের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে ৬ জুলাই নওয়াজ শরিফ আর তার মেয়ে মরিয়মকে কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায় ঘোষণার সময় লন্ডনে অবস্থানরত পিতা ও কন্যা শুক্রবার দেশে ফিরেই গ্রেফতার হন তারা। বর্তমানে নওয়াজ রাওয়ালপিন্ডির রিয়ালের কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং মরিয়ম ‘শিহালা ট্রেনিং কলেজ রেস্ট হাউস’-এ স্থাপিত সাব-জেলে অবস্থান করছেন। সরকারি কয়েকটি সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে, চার জন চিকিৎসক নওয়াজ ও তার মেয়ে মরিয়মের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। তারা জানান, কারাগারে প্রেরণের ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। নওয়াজ শরিফের পক্ষ থেকে কারাগারে তাকে ডিভিশন সুবিধা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তার মেয়ের জামাই অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ সফদরও  আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় তারও ডিভিশন সুবিধা পাওয়ার কথা।

ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরোর আইনে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আগাম জামিন কিংবা আপিল আবেদনের সুযোগ নেই। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পথ তাই হাইকোর্টে সশরীরে হাজির হওয়া। উচ্চ আদালতের কাছে আপিল কিংবা জামিনের আর্জি পেশ করতে হলে তাই গ্রেফতারি বরণ আবশ্যক। আইনি লড়াইয়ের জন্য গ্রেফতার হওয়া ছাড়া নওয়াজ ও তার কন্যার আর কোনও পথ ছিল না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্টের’ দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে শনিবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হবে নওয়াজ ও মরিয়মের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে। সোমবার বা মঙ্গলবার আবেদনটির শুনানি হতে পারে। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সেক্ষেত্রে ‘অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্টের’ দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দিয়ে অভিযুক্তদের জামিন মঞ্জুর করতে পারে। ‘পাকিস্তান মুসলিম লীগের’ (পিএমএল-এন) নেতারা আশা করছেন, নওয়াজ, মরিয়ম ও সফদর সশরীরে হাইকোর্টের সামনে হাজির হলে তাদের জামিন হয়ে যাবে।

নব্বইয়ের দশকে লন্ডনে পার্ক লেনের অ্যাভেনফিল্ড হাউসে চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনে নওয়াজের পরিবার। এ নিয়ে নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। নওয়াজ শরিফ বরাবরই দুর্নীতির এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ফ্ল্যাট কেনার অর্থের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন নওয়াজ। ঘোষিত আয়বহির্ভূত সম্পদ থাকার দায়ে নওয়াজকে ১০ বছর ও তার বাবাকে সম্পদ গোপনে সহায়তা করার জন্য মরিয়মকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তদন্তে অসহযোগিতা করার অভিযোগে মরিয়মকে আরও এক বছর সাজা দেয় আদালত। তবে ওই দুই সাজার মেয়াদ এক সঙ্গে কার্যকর করার উল্লেখ ছিল রায়ে। মরিয়মের স্বামী ও নওয়াজের মেয়ের জামাই অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ সফদরকেও আদালত এক বছরের সাজা দিয়েছে। সফদর আদিয়ালা জেলে অন্তরীণ রয়েছেন।

পাকিস্তানের ‘অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্টের’ পক্ষে যিনি নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে হওয়া অ্যাভেনফিল্ড অ্যাপাটমেন্ট সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার রায় দিয়েছিলেন সেই বিচারক মুহাম্মদ বসিরই গতকাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ‘ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিট ব্যুরো’ বিচারকের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে নওয়াজ ও তার মেয়েকে আদালতের সামনে উপস্থিত করার বাধ্যবাধকতা থেকে যেন তাদর রেহাই দেওয়া হয়। বিচারক সেই অনুরোধ রক্ষা করে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে আদিয়ালা জেলে পাঠিয়েছেন পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য। পাকিস্তানের আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নওয়াজ, তার মেয়ে ও মেয়ে জামাইয়ের বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম আদিয়ালা জেলেই অনুষ্ঠিত হবে। তাদের বিরুদ্ধে এখনও আল আজিজিয়া স্টিল ও হিল মেটাল সংক্রান্ত মামলা, ফ্ল্যাগশিপ ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে বিনিয়োগ সংক্রান্ত মামলাসহ আরও কয়েকটি দুর্নীতির মামলা রয়েছে।

পিডিএসও/রিহাব