ট্যালকম পাউডারে ক্যান্সার, জনসনকে ৪৭০ কোটি ডলার জরিমানা

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৮, ১৮:০৭

অনলাইন ডেস্ক

জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যালকম পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার করার কারণে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটিকে ৪৭০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।
মিসৌরি রাজ্যের আদালত প্রাথমিকভাবে ৫৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয় এবং পরে এর সাথে আরও ৪১৪ কোটি ডলার যোগ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের প্রধান পণ্য বেবি পাউডার ব্যবহার করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় প্রায় নয় হাজার নারী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এই রায়ে ‘গভীরভাবে হতাশ’ এবং আপিল করার পরিকল্পনা করছে।

ছয় সপ্তাহের শুনানিতে বাদি নারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, তারা কয়েক দশক ধরে বেবি পাউডার ও অন্যান্য পণ্য ব্যবহারের ফলে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।

এই মামলায় যে ২২ জন নারীর কথা বিবেচনা করা হয়েছে তাদের মধ্যে ছয় জন ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে মারা গেছেন।

তাদের আইনজীবীরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭০ সাল থেকেই জানত তাদের ট্যালকম পাউডারে বিষাক্ত এসবেস্টস রয়েছে। কিন্তু তারা এই বিষয়ে ক্রেতাদের সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ট্যালকম এক ধরনের মিনারেল যা কখনো কখনো ভূগর্ভস্থ এসবেস্টসের খুব কাছে পাওয়া যায়।

জনসন অ্যান্ড জনসন তাদের পাউডারে এসবেস্টস থাকার কথা অস্বীকার করে জোর দিয়ে বলেছে, এটি ব্যবহারের কারনে ক্যান্সার হয় না।

প্রতিষ্ঠানটি তাদের দাবির স্বপক্ষে কয়েকটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, তাদের পাউডার ব্যবহার করা নিরাপদ।

এই রায়ের ফলে জনসন অ্যান্ড জনসনকে রেকর্ড পরিমাণ জরিমানা গুনতে হবে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের প্রধান আইনজীবী মার্ক লেনিয়ার বলেন, জনসন অ্যান্ড জনসন তাদের পণ্যে এসবেস্টস থাকার প্রমাণ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গোপন করেছে।

বিচার চলাকালীন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, খনিজ ট্যালকম এসবেস্টসের সাথে মিশে থাকে এবং এটি জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার এবং শাওয়ার পণ্যের প্রধান উপাদান।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অনেক নারীর ডিম্বাশয়ের টিস্যুতে এসবেস্টস ও ট্যালকম কনা পাওয়া গেছে।

লেনিয়ার বলেন, ‘আমরা আশা করি এই রায় জনসন অ্যান্ড জনসনের পরিচালকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং তারা চিকিৎসক ও জনগণকে এসবেস্টস, ট্যালকম ও ডিম্বাশয়ের কান্সার সম্পর্কে সবাইকে আরও সচেতন করবে। আরও বেশি ক্ষতি ও মৃত্যুর কারণ হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির উচিত ট্যালকম পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে ফেলা।’

পিডিএসও/রিহাব