ইরান পরমাণু চুক্তি বাঁচাতে তৎপর ইউরোপ

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৮, ১০:৪১

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের পর ইরান পরমাণু চুক্তি বাঁচাতে বাকি দেশগুলো জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেলেও ইরান চুক্তি বাঁচাতে চায় অন্য বিশ্বশক্তিগুলো জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মারকেল এরই মধ্যে এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

ক্রেমলিন থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরান পরমাণু চুক্তি নিয়ে মারকেল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন। মারকেল বলেন, ‘ইরান পরমাণু চুক্তি বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের দেশটির সঙ্গে কথা বলতে হবে। আর ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর তাদের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করায় ইউরোপের বিভিন্ন কোম্পানি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে জোর অভিযোগ ফ্রান্সের মন্ত্রীদের।

২০১৫ সালে বিশ্বের ছয় শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিজেদের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে একটি চুক্তিতে উপনীত হয় ইরান। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ইরান অন্তত ১০ বছরের জন্য তাদের ইউরোনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ হ্রাস করবে। বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

২০১৬ সালে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া শুরু হলে জার্মানি ও ফ্রান্সের অনেক বড় বড় কোম্পানি দেশটিতে বিনিয়োগ করার পাশাপাশি পণ্য রফতানিও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। ইউরোপের উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘এয়ারবাস’ ইরানের কাছে প্রায় ১০০টি উড়োজাহাজ বিক্রির চুক্তি করেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হওয়ায় তাদের বড় বিপদে পড়তে হবে। এয়ারবাস উড়োজাহাজের অনেক যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনে। কয়েকটি বড় বড় ফরাসি কোম্পানির ইরানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তাদের অন্যতম জ্বালানি কোম্পানি ‘টোটাল’ এবং গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘রেনল্ট’ ও ‘পোয়গেয়ট’।

ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লো মেয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করে বলেন, ইউরোপ নিজেদের ‘অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে’। তিনি ইউরোপীয় কমিশনকে সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে ইউরোপের কোম্পানিগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখতে তিনি এবং জার্মানির অর্থমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানায় বিবিসি। এছাড়া আগামী মঙ্গলবার জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি বৈঠকে বসবেন।

এদিকে, এ সপ্তাহের শেষ দিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর চীন, রাশিয়া ও বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে যাওয়ার কথা রয়েছে। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরান চুক্তি থেকে সরে আসার এবং তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প ঘোষণা দিলেও ইরানের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না; এ জন্য ৯০ থেকে ১৮০ দিন কিংবা এরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট।

পিডিএসও/তাজ