জীবনে আর রাষ্ট্রীয় পদে ফিরতে পারবেন না

নওয়াজ শরিফ আজীবন নিষিদ্ধ

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:৫৪ | আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:০৯

অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জীবনে আর কখনোই ক্ষমতায় যেতে পারবেন না। কারণ- দুর্নীতির দায়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া নওয়াজ শরিফকে রাষ্ট্রীয় পদে আজীবন অযোগ্য ঘোষণা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আজ শুক্রবার প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের ৫ সদস্যের বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে এই রায় দিয়ে নওয়াজের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ নিয়ে সৃষ্ট অস্পষ্টতা দূর করেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, জনগণ সৎ চরিত্রের নেতা পাওয়ার দাবিদার। প্রসঙ্গত পাকিস্তান সংবিধানের ধারা ৬২(১) অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য হওয়ার পূর্ব শর্ত হলো ব্যক্তিকে ‘সাদিক ও আমিন’ (সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ) হতে হবে। একই ধারায় গত ১৫ ডিসেম্বর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা জাহাঙ্গির তারিনকে অযোগ্য ঘোষণা করে পাকিস্তান হাইকোর্ট। 
হাইকোর্টের ওই ২ রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ১৭টি আপিল ও পিটিশন জমা পড়ে বলে জানায় পাকিস্তানের দৈনিক ডন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে, পার্লামেন্ট সদস্য বা সরকারি পদে থাকা কোনো ব্যক্তি সংবিধানের ৬২ ধারা অনুযায়ী নিষিদ্ধ হলে তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আজীবন নাকি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। শুক্রবারের এই রায় ওইসব প্রশ্নের অবসান ঘটিয়েছে। অর্থাৎ নওয়াজ এবং পিটিআই নেতা জাহাঙ্গির আর কখনও কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। বিচারপতি উমর আতা বানদিয়াল শুক্রবারের রায় পাঠ করেন।
খবরে প্রকাশ, গত বছর ২৮ জুলাই পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারি মামলায় পাকিস্তানের হাইকোর্ট সংবিধানের ৬২ ধারা অনুযায়ী নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করেন। ওই রায়ের পর পদত্যাগ করেন নওয়াজ। তবে প্রধানমন্ত্রীত্ব হারালেও পার্লামেন্টে তার দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ- নওয়াজ (পিএমএল-এন) সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় একটি আইন সংশোধনের মাধ্যমে তিনি পিএমএল-এন এর নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন। 
কিন্তু গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে সব সরকারি কাগজপত্র থেকে পিএমএল-এন এর প্রেসিডেন্ট হিসাবে নওয়াজ শরিফের নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়। ৭ দিনের মধ্যে নওয়াজের ভাই শাহবাজ শরিফকে পিএমএল-এন এর অন্তর্র্বতীকালীন প্রধান নির্বাচিত করা হয় এবং নওয়াজকে দলের আজীবন নেতা ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে কোনো পদে না থেকেও পিএমএল-এন এর লাগাম নিজের হাতে রেখে দেন নওয়াজ।

পিডিএসও/মুস্তাফিজ