ময়না তদন্ত শেষে লাশ শনাক্তের সুযোগ পাবেন স্বজনরা

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৬:৪৫

অনলাইন ডেস্ক

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্ত চলছে। এসব ছাড়াও কিছু আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া আছে। সেগুলো শেষ হওয়ার পর মরদেহগুলো শনাক্তের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশ থেকে আসা স্বজনরা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও ইউএস-বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এদিকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হতাহতদের স্বজনরা এখনও তাদের নিকটাত্মীয়দের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাননি। যারা বেঁচে আছেন তাদের কাছে কীভাবে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে সে তথ্য এখনও জানা সম্ভব হয়নি। তবে কাঠমান্ডু থেকে আশিক কাঞ্চন নামে এক প্রবাসী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস যাত্রীদের যেসব স্বজনকে নিয়ে গেছে তাদের প্রথমে নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাস কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যাদের নিকটাত্মীয়রা নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছে তারা এখন মহারাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সামনে ভিড় করছেন। 

তিনি জানান,  মঙ্গলবার বেলা ২টা পর্যন্ত পাঁচজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তবে সবগুলো মরদেহের ময়নাতদন্ত আজ শেষ না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্য দুই তিন দিন লাগতে পারে বলে অনুমান করেছেন তিনি।

স্থানীয় উইন্ডমিল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আশিক কাঞ্চন জানান, ‘আমি সকালে মহারাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে গিয়েছি। সেখানে জেনেছি, ময়নাতদন্তের পর লাশগুলো দেখানোর জন্য রাখা হবে। নিকট আত্মীয়দের দাঁত, জন্মদাগ, অলঙ্কার, শেষ পরিধেয় বস্ত্র এসব দেখে মরদেহ চিহ্নিত করতে হবে। নিকটাত্মীয় যারা নেপালে আসছেন নিহতদের ময়নাতদন্ত না হওয়া পযন্ত তাদের ধৈর্য ধরে থাকতে হবে বলেও তিনি জানান।

আশিক কাঞ্চন আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে স্বজনদের নিয়ে একটি ফ্লাইট এসেছে। তাদেরকে নেপালে বাংলাদেশের দূতাবাসে নেওয়া হয়েছে। আশাকরি তাদের সঠিক নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

সোমবার অবতরণের সময় নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ইউএস বাংলার জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) কামরুল ইসলাম জানান, ৬৭ যাত্রী ও ৪ জন ক্রু নিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বিমানটি। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ৩২ জন, নেপালি ৩৩ জন, মালদ্বীপের একজন, চীনের একজন। ক্রুদের মধ্যে ছিলেন ক্যাপ্টেন আবিদ, ফার্স্ট অফিসার প্রিথিলা রশীদ, কেবিন ক্রু দুইজন। এদের মধ্যে ফার্স্ট অফিসার প্রিথিলা রশীদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন আর ক্যাপ্টেন আবিদ আজ  সকালে মারা গেছেন।

তিনি আরও জানান, যাত্রীদের মধ্যে পূর্ণবয়স্ক মানুষ ৬৫ জন এবং দুটি শিশু। বিমানের মডেল-কিউ-এইট। বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের ৪৬ স্বজনকে আজ সকালে বিশেষ ফ্লাইটে নেপালে নিয়ে গেছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২ মিনিটে স্বজনদের বহনকারী বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

এদিকে, নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ সেখান থেকে যে কোনও সময়ে নিয়ে আসার জন্য ইউএস-বাংলা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম।  মঙ্গলবার দুপুরে তিনি জানান, নেপালে মৃতদেহের ফরেনসিকসহ কিছু আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া আছে। সেগুলো যখনই শেষ হয়ে যাবে সঙ্গে সঙ্গে মৃতদেহগুলো ফিরিয়ে আনা হবে। সে প্রস্তুতি আমরা নিয়ে রেখেছি।

ইতোমধ্যেই আমাদের একটা প্রতিনিধি দল নেপালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে বৈঠক করেছে। সেখান থেকে তারা সবগুলো হাসপাতালে ভিজিট করে তথ্য পাঠানোর পর আমি হতাহত এবং মৃতের প্রকৃত সংখ্যা দিতে পারবো।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হতাহতের চিকিৎসা এবং নিহতদের লাশ স্বজনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যাবতীয় খরচ ইউএস বাংলা বহন করবে। এছাড়া যাত্রীদের ইন্স্যুরেন্সের বিষয়টি একটি প্রক্রিয়া। তাও পরবর্তীতে সম্পন্ন করা হবে।

পিডিএসও/রিহাব