কোরবানির পশু নির্বাচন পদ্ধতি ও করণীয়

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২০, ২০:১৪ | আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২০, ১২:০৪

মো. আব্দুল্লাহ

১ আগস্ট সারা দেশে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে পুরোদমে চলছে বেচাকেনা। তবে হাটে বিক্রির জন্য আসা গরুর মধ্যে অনেকগুলোই থাকতে পারে রোগাক্রান্ত অথবা ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ওষুধযুক্ত। এসবের মধ্যে থেকে কোরবানির যোগ্য সুস্থ গরু চেনার উপায় কি? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের অ্যানিমেল প্রোডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মহব্বত আলী

কোরবানির পশু কিভাবে নির্বাচন করব? 
কোরবানির পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথমে দেখতে হবে পশুটি প্রাপ্তবয়স্ক কিনা? সাধারণত গবাদি পশুর (গরু, ছাগল ভেড়া কিংবা অন্য যেকোন) দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করা হয়। যদি নিচের পাটিতে দুটি স্থায়ী দাঁত থাকে তবে গরুর বয়স দুইবছর, স্থায়ী দাঁত সাধারণত একটু বড় এবং হলদে হয়। ছাগলের ক্ষেত্রে দাঁত দুইটি হলে বয়স ১২-১৫ মাস, চারটি দাঁত হলে দুই বছর। খামারিদের কাছে যদি গবাদিপশুর জন্মতারিখ ও সালের ডাটা থাকে তবে সহজেই বয়স নির্ধারণ করা যায়। 

বাজারে সুস্থ গরু চেনার উপায়—
১. গরু খুব চঞ্চল হবে, কানগুলো খাড়া থাকবে, চোখ উজ্জ্বল হবে এবং লেজ নাড়াচাড়া করবে। 
২. গরুকে ধরতে গেলে নড়াচড়া করবে, ধরতে দেবে না, সবসময় জাবর কাটবে, স্বাভাবিক ইউরিনেশন হবে। 
 ৩. খোড়া রোগ আছে কিনা দেখতে হবে, তাপমাত্রা, সুস্থ পশুর শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হবে, মুখ হালকা আদ্র থাকবে

অসুস্থ গরু চেনার উপায়
১. গরু অল্পসময়ে মোটাতাজা করার জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা ঈদের ২০-২৫ দিন আগে থেকে স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ খাওয়ানো শুরু করে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডোজ খাওয়ানোর কারণে গরুর শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়। হৃৎপিন্ড, কিডনি, ফুসফুস এর কার্যক্রম বিনষ্ট হয়। এতে শরীরে পানি জমে শরীর ফুলে যায় ফলে সাধারণ লোকজন সহজে গরুর অসুস্থতা বুঝতে পারে না। এক্ষেত্রে অসুস্থ গরু চেনার উপায় হলোগরু গম্ভীর হয়ে যায়, অস্বাভাবিক দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, বসে থাকে এবং সহজে উঠতে চায় না। তিনি আরও জানান, প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২০ সালে কুরবানির পশুর চাহিদা ১  কোটি ১০ লক্ষ এবং  দেশে বর্তমানে ১ কোটি ১৯ লক্ষ গবাদিপশু আছে। ফলে ভারত, মিয়ানমার থেকে গরু আনার প্রয়োজন নেই।

গরুর গোশত সংরক্ষণ পদ্ধতি
আত্নীয়স্বজন ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের পর উদ্ধৃত গোশত দুইভাবে সংরক্ষণ করা যায়। 
১. ফ্রিজে রেখে : পশুর গোশত কাটার পর সাথেসাথে ফ্রিজে না রেখে গোশত থেকে রক্ত ও চর্বি পরিস্কার করে পানি শুকিয়ে ফ্রিজে রাখতে হবে। ফ্রিজে কোনো দুর্গন্ধ থাকলে তা ভালভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে। সাধারণত ফ্রিজে ৪-৫ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। অনেকসময় গ্রামাঞ্চলে দুই-তিন দিনের জন্য বিদ্যুৎ চলে যায়। সেক্ষেত্রে ফ্রিজ খুলা যাবে না। 
২. শুকিয়ে : গরুর গোশত ৪-৫ দিন রোদে বা চুলায় শুকিয়ে এর সাথে কিছু লবণ মিশিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। বায়ুশূন্য কন্টেইনার রেখে ১ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। মাঝেমাঝে রোদে শুকাতে হবে এবং ব্যবহার করার পুর্বে কুসুম গরম পানিতে ঘন্টাখানিক সময় ভিজিয়ে রাখতে হবে। 

কোরবানি করার ক্ষেত্রে সতর্কতা
যত্রতত্র পশু জবাই না করে নির্দিষ্ট স্থানে জবাই করতে হবে, গোশত সংগ্রহ করার পর বর্জ্য পদার্থ ভালভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার করতে হবে।

চামড়া সংরক্ষণ : চামড়া ভালভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোরবানি পশুর চামড়া যদি সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা যায় তাহলে ১০০০ কোটি টাকা লাভ করা যাবে।

করোনার ভয়াবহ ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে এই প্রাণী বিশেষজ্ঞ বলেন, কোরবানি অনুষ্ঠান যেন করোনার উৎসবে পরিনত না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। ওই সময় লোক সমাগম করা যাবে না। পশু কোরবানি সময় অবশ্য হ্যান্ড গ্লাভস ও মাক্স পড়তে হবে। এ সময় হাঁচি কাশি দেয়া যাবে না।

পিডিএসও/শামীম/হেলাল