আবার হবে তো দেখা

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০৫ | আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ১১:৪৩

অনিরুদ্ধ বিশ্বাস, শিক্ষার্থী (খুবি)

১৯ মার্চ, ২০২০। মহামারি করোনাভাইরাসের জন্য অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ও ৩১ মার্চ অবধি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিজ বাড়িতে ফেরার জন্য রুম থেকে বেরিয়ে তালা লাগানোর সময় দেখতে পেয়ে এক সহপাঠী নেহাতই ঠাট্টার ছলে বলেছিল, বন্ধু বাড়ি যাচ্ছিস? বেঁচে থাকলে আবার আমাদের দেখা হবে।

আর, আজ ১৬ এপ্রিল। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন বাড়তে বাড়তে বারশত ছাড়িয়েছে।

প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় খুব তাড়াতাড়ি যে খুলবে সেটাও অনিশ্চিত। আর তাই হাতে এখন দীর্ঘ অবসর। এই দীর্ঘ অবসরের ফাঁকে ফাঁকে ক্যাম্পাসের স্মৃতিগুলো চোখে ভাসতে থাকে। ক্যাফেটেরিয়া থেকে কোনওমতে নাস্তা সেরে ক্লাসরুমের দিকে দৌড়ানো, তপনদা কিংবা সাইদুল ভাইয়ের ঝুপড়ি দোকানে বাঁধভাঙা আড্ডায় চলে দিন। গান গাইতে পারি আর নাই পারি জিমনেশিয়াম ভবনের নিচে গভীর রাতে গানের আসরে শামিল হওয়া, চেনা ক্লাসরুম, প্রিয় মুখের সারির কথা খুব মনে পড়ছে।

মাঝে মাঝে বন্ধুদের ফোন দেই, ফেসবুকে গল্প করি। ওদের খবর, ওদের এলাকার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাই। যতদুর বুঝলাম, শহরাঞ্চলে মানুষ মোটামুটি সচেতনতা অবলম্বন করছে। তবে গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা করোনার ভয়াবহতা খুব কমই গ্রাহ্য করছেন। এখনো গ্রামে কিছু কিছু জায়গায় মানুষের ভীড় হয়, যেমন চায়ের দোকানে। গৃহবন্দি থাকতে চাইছে না কেউ। আর দুপুর গড়িয়ে বিকেল পড়লেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে গল্প করার যে সংস্কৃতি বাংলার গ্রামে চলে আসছে, করোনার এই দুর্দিনেও তা থেমে নেই।

করোনার কবলে এরমধ্যেই বাংলাদেশ অর্ধশত মৃত্যু দেখে ফেলেছে। অন্যান্য দেশগুলোর পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে এদেশের জন্য সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। তাই ক্ষণে ক্ষণে সেই সহপাঠীর কথা মনে পড়ে আর বুকটা কেঁপে ওঠে। আবার হবে তো দেখা? মনে আশংকা থেকেই যায়, এই দেখাই শেষ দেখা নয়তো!