তুমিই অমর একুশে

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:১৮

সনজু খান

তখনো সোনালি সূর্য উদিত হয়নি। ভোরের আবছা আলোয়, সাদা কালো পোশাক পরিহিত শত শত নারী-পুরুষ ছিল খালি পায়ে নীরবতার মিছিলে। বুকে ঝুলিয়েছিল শোকের মাতন, হাতে ধরেছিল কালো পতাকা।

সবার কণ্ঠে একসাথে ধ্বনিত হয়েছিল একুশের অমর গান। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি। মাইক্রোফোনে বেজে উঠেছিল প্রতিবাদী কবিতার ঝড়।

শিহরিত হয়ে দৌড়ে গিয়েছিলাম মিছিলের পেছনে। সেদিন পরনে ছিল হাফপ্যান্ট। বিছানায় আড়মোড়া ভাঙার জন্য মায়ের তিলকচর্চিত ডাকের অপেক্ষা করিনি। আলোড়িত রক্তে ধাবিত ছিল মিছিল আর স্লোগান।

তখন থেকেই আমার অনুভূতিতে বেড়ে ওঠে প্রতিবাদীর অঙ্কুর। অন্যায়ের প্রতিবাদে চপারের তীক্ষ্ণ ফাল হয়ে গর্জে ওঠে আমার কণ্ঠ। ব্যাকুল হয়ে মা'কে বলি,  মা কবে বড় হবো।
অবাক বিস্ময়ে মিছিলের স্তরজুড়ে দেখলাম, ওই তো আমি! একটি গাঁদা ফুল সংগ্রহ করে খালি পায়ে উঠেছি শহীদ মিনারের বেদিতে। বিনম্র শ্রদ্ধায় ঐক্যের মন্ত্র পাঠ করেছিলাম সমবেত সুরে।

রফিক জব্বার বরকতসহ নাম না-জানা কত শহীদের মাঝে দেখতে পেতাম, ঐ লাল রক্তের আত্মত্যাগে ছিনিয়ে আনা মাতৃভাষার দীর্ঘ পথরেখা। ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে চলেছি সম্প্রীতির অমর রহে।

এখনো যে শহীদ মিনারের বেদীতে লাঞ্চিত হয় অজস্র প্রতিবাদী প্রাণ! কত কষ্ট! কত নিপীড়ন, কত আঘাত, সহ্য করে ধ্বনিত হয় রাজপথে মিছিলের সম্প্রীতি।

বিভেদের বুলেটে এখনো রক্তাক্ত প্রতিবাদীরা। আমিও অপেক্ষা করি সেই বুলেটের আঘাত। হয়তো শহীদের রক্তে রঞ্জিত না হয়ে, হবো কোনো বেওয়ারিশ লাশ। পরিণত হবো শিয়াল কুকুরের খাদ্যে। 

ভাষার জন্য, দেশের জন্য, আমরা দিতে শিখেছি প্রাণ। নিজের মধ্যে গড়ে তুলেছি নতুন নেতৃত্ব। তাইতো আমি অনুগামী, আমিই তো লক্ষ্য, আমিই যে সম্ভব।

তবুও তোমার প্রতীক্ষায় থাকি। তুমি শুধু একটি মাসের দিনক্ষণ নও! তুমি যে জাতির বিবেক! তুমিই প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। তুমিই তো বিশ্বমানচিত্রে ভাষার প্রতীক। তুমিই আমার অহংকার। তুমি অমর একুশে ফেব্রুয়ারি।

পিডিএসও/হেলাল